চট্টগ্রাম আদালতে বড় মাপের টাউট আটক!

স্টাফ রিপোর্টার:

মামলা করিয়ে দেবেন, আসামি ধরিয়ে দেবেন, খালাস করিয়ে দেবেন, মামলা নিষ্পত্তি করিয়ে দেবেন— এ ধরনের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে টাকা আত্মসাত করেন নেন তিনি।এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম আদালতে ঘুরে ঘুরে প্রতারণা করছিলেন সেবাপ্রার্থীদের সাথে।সম্বল একটাই। আইনজীবী সমিতির এক সদস্যের নামের সাথে তার নামের মিল। এটা দিয়েই নিজের নামে কার্ড বানিয়ে দীর্ঘদিন করছিলেন প্রতারনা। নামের পাশে আবার উপাধ্যক্ষ লেখা। অবশেষে আইনজীবী সমিতির টাউট বিরোধী অভিযানে ধরা পড়ে যান তিনি।

চট্টগ্রাম আদালতে ধরা পড়া এই ভূয়া আইনজীবীর নাম রতন কুমার দাশ। তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি সম্পাদক ও আইটি সম্পাদকের নেতৃত্বে ধরা পড়ে এই ভুয়া আইনজীবী।

সমিতির সহ-সাধারন সম্পাদক এডভোকেট কবির হোসাইন এ ঘটনায় সমিতির পক্ষে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।

আদালত পাড়ায় ভূয়া আইনজীবী ও দালালদের চিহিৃত করতে এ শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়। ধরা পড়া ভূয়া আইনজীবীকে আটকের পর সে ‘আইনজীবী নয়, টাউট’ বলে স্বীকার করে।

টাউট ধরা অভিযানে অংশ নেয়া আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরী সম্পাদক আলী আকবর সানজিক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন-

‘অনেক বড় মাপের একজন টাউট আটক।
আপনারা জানেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির দুর্নীতি দমন ও টাউট উচ্ছেদ কমিটির অভিযান চলছে। এই অভিযান চলাকালে বিগত কয়েকদিন পুর্বে উনাকে আদালতে শুনানি থেকে বের হলে উনার চলাফেরায় সন্দেহের সৃষ্টি হয় ফলশ্রুতিতে আমি ও আমাদের আইটি সম্পাদক ইমরুল হক মেনন তাকে পরিচয় দিতে বলি। সে তাকে আইনজীবী পরিচয় দিলে আমি তার লিন নাম্বার জানতে চাই। সে তার লিন নাম্বার ৭১৪ হিসেবে আমাদেরকে জানান। আমি আমার মোবাইলে সংরক্ষিত সফটওয়্যার চেক করে তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে তার তথ্য সমূহ সঠিক পাই। কিন্তু উক্ত সফটওয়্যার এ তার ছবি পাওয়া না যাওয়ায় তাকে ছবি আপডেট করার জন্য অনুরোধ করে ছেড়ে দেই।
কিন্তু সন্দেহের অবসান না ঘটায় আইনজীবী সমিতিতে এসে বারের সফটওয়্যার এ তার দেওয়া তথ্য চেক করে দেখি সেখানে যে ছবি দেওয়া আছে তা তার নয়। অন্য একজন আইনজীবীর। আমার যা বোঝার বুঝে নিলাম। ইতিমধ্যে ঘটনার পরের রবিবার সে আইনজীবী সমিতিতে এসে তার ছবি দিয়ে যায় আপডেট করার জন্য। আমাদের বারের শ্রীরুপকে বলা ছিল তার ব্যাপারে। কিন্তু শ্রীরুপ আমাকে ফোনে জানাতে জানাতেই সে স্থান ত্যাগ করে পলায়ন করে। আর ধরতে পারলাম না।

তবে তার দিয়ে আসা ছবি আমাদের সকল কর্মচারীদের দেখিয়ে তাকে দেখার সাথে সাথে আমাকে জানাতে বলি। এরপর প্রতিদিন তার খোজে আমি প্রতিটা বিল্ডিং এ ঘোরাঘুরি করি কিন্তু তার দেখা মিলে না। তবে তিনি এনেক্স -১ ভবনের ৭ম তলায় একজন আইনজীবীর সাথে থাকেন সংবাদ পেয়ে সেখানে নজরদারি বৃদ্ধি করলাম। আজকে তথ্য পেলাম আর তাকে ধরে বারে নিয়ে আসলাম। ইতিমধ্যে তার দেওয়া লিন নাম্বার এর সঠিক আইনজীবীকে ডেকে নিয়ে আসলাম। তিনি আছেন বারে। তিনি আইনজীবী নন। ইতিপূর্বে তিনি বারের লোগোযুক্ত পিন ব্যবহার করে কোর্টে লাগিয়ে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়েছে। উল্লেখ্য বেশ কিছুদিন আগে তাকে ফল বিক্রেতা ফল চুরিতে ধৃত করেছিল। সে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেওয়ায় ফল চুরির ঘটনায় আইনজীবীদের মান মর্যাদা নষ্ট হয়েছিল।’

মতামত দিন