সিনহা হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি ওসি প্রদীপ

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান তিন আসামির মধ্যে দুইজনসহ মোট ৫ আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে টানা ১৫ দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। ফলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়াই প্রদীপকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টম্বর) বেলা ৪টার দিকে চতুর্থ দফায় ১ দিনের রিমান্ড শেষে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রদীপকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টেকনাফ-৩) আদালতে সোর্পদ করে তদন্ত সংস্থা র‍্যাব। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর আদালত থেকে পুলিশের একটি প্রিজনভ্যানে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জেলা কারাগারে।

সিনহা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খায়রুল ইসলাম জানান, ১৫ দিনের রিমান্ডেও সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ স্বীকারোক্তি দেননি। ১৫ দিনের বেশি এক মামলায় আর রিমান্ড চাওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। তাই নিয়ম মতে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই গুলি করা হয়েছে সিনহাকে। তবে এ ঘটনাকে সরাসরি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন সিনহার স্বজনরা।

এরই প্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্ট বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে কক্সবাজার আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস।

এর পর ৬ আগস্ট প্রধান আসামি লিয়াকত ও প্রদীপসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে আটকে দেখিয়ে আদালতে সোর্পদ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিনহা হত্যা মামলায় পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করেছে তদন্ত সংস্থা র‍্যাব।

মতামত দিন