সিনহার হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট নই : সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে মন্তব্য করে অবশ্যই দোষীদের ‍দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে হবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তবে দেশের যে কোনো অস্থিতিশীল মুর্হূতে একটি পক্ষ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে এ ঘটনায় তেমনটি চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামে রেজিমেন্টাল কালার প্যারেড শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান। এ দিন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ৬টি ইউনিটকে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পতাকা তুলে দেন সেনাপ্রধান। এ সময় তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের পাশাপাশি সালাম গ্রহণ করেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহাকে নিয়ে নানা বিষয় কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি বলব, এটা একটা অত্যন্ত নৃশংস, জঘন্যতম হত্যা ঘটনা ঘটিয়েছে। তো এটার তদন্ত হচ্ছে। আমি সেনাপ্রধান হিসেবে আশা করতে চাই তদন্তটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। এবং যারা প্রকৃত ক্রিমিনাল, তাদের উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কোন ঘটনা সেনাবাহিনীর সার্ভিং অথবা রিটায়্যার্ড কারো সাথে না ঘটে। আমি সেটা প্রত্যাশা করব।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘না, দেখুন- আমরা যুগ যুগ ধরে দেখে আসি যেকোনো একটা ঘটনা ঘটলে কেউ-না-কেউ এটার আঙ্গিয়ো প্রিভিলেইজড দিতে চায়। এবারও অনেকে এ ধরনের চেষ্টা করেছিল, হয়তো এখনো করছে। এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে। তবে সচেতন মানুষ এগুলো অবশ্যই বুঝে। যে একটি ঘটনা ঘটেছে, অবশ্যই এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা, ন্যাক্কারজনক ঘটনা।’

তিনি আরও বলের, ‘সেটিকে আপনারাও দেখেছেন যে শুধু সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এটাকে ঘৃণা জানানো হয়নি, ইভেন পুলিশ প্রধানও সেদিন এসেছেন, দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এবং সকলে মর্মাহত হয়েছে এ ঘটনায়। তো এরকম একটি ঘটনাকে নিয়ে কেউ যদি অন্য কিছু করার চেষ্টা করে সেটি খুবই দুঃখজনক। এবং সেটা কাঙ্ক্ষিত নয়।’

জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘প্রথম কথা হলো- সেনাবাহিনীর যে কোন সদস্যের যদি অস্বাভাবিক কোনো কিছু হয়, সেটির ব্যাপারে আমাদের নিজস্ব একটি তদন্ত হয়। সেটা আমাদের ডিপার্টমেন্টের প্রয়োজন। ঠিক আছে? তো আমরাও সে ধরনের একটি নির্দেশ সাথে সাথে দিয়েছি। সে তদন্ত হচ্ছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে সেনা প্রধান বলেন, ‘এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কোনো সুপারিশ দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ এই ঘটনার পরপর সরকারের পক্ষ থেকে একটি যৌথ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত টিমের প্রতি সেনাবাহিনী, এবং আমি নিশ্চিত পুলিশ বাহিনীরও এ ব্যাপারে সমর্থন রয়েছে। এ তদন্ত দল সরকারকে যেটি উপযুক্ত মনে করবে, সেই সুপারিশগুলো করবে। এখানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সুপারিশ করার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ এখানে একটি যৌথ টিম গঠন করা হয়েছে। সেখানে আমাদের সেনাবাহিনীরও সদস্য আছে।আলাদাভাবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোন সুপারিশ করার স্কোপ আছে বলে আমি মনে করিনা।’

তদন্ত সন্তুষ্ট কিনা তা জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর শীর্ষ এ কর্মকর্তা বলেন, ‘দেখুন, তদন্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না। তদন্তের সন্তুষ্ট কিনা; কারণ যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা সকলে জানে। অত্যন্ত জঘন্যতম একটি ঘটনা ঘটেছে। সেটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে। এটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে এবং সাজাটা যখন হবে তখন সন্তুষ্টির প্রশ্ন আসবে। তার আগেই সন্তুষ্ট কিভাবে বলবো? বলার কোনোসুযোগ নাই।’

মতামত দিন