অজ্ঞান অবস্থায় সাড়ে ৪ ঘন্টা কক্ষেই পড়েছিলেন ইউএনও ওয়াহিদা

সরকারি বাসভবনে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত ইউএনও ওয়াহিদা খানম দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সাড়ে ৪ ঘন্টা অজ্ঞান অবস্থায় কক্ষেই পড়েছিলেন।

সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী বুধবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে টয়লেটের ভেন্টিলেটর খুলে কক্ষে প্রবেশ করে দুস্কৃতিকারীরা। ইউএনও ওয়াহিদা ও তার পিতার ওপর হামলা চালিয়ে আধাঘন্টা পর রাত প্রায় ২টার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় তারা।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে শুক্রবার বিকালে ইউএনও’র বড়ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বলেন, ওইদিন সকাল সাড়ে ৬টার সময় জ্ঞান ফিরে বাবা ওমর আলী শেখ চিৎকার শুরু করেন। এরপর ঘটনা জানাজানি হয়। পরে তাদের বাসা উদ্ধার করে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই হিসেব অনুযায়ী মাথায় হাতুরীর আঘাত পাওয়ার প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টা অজ্ঞান অবস্থায় কক্ষেই পড়েছিলেন ইউএনও ওয়াহিদা খানম। দীর্ঘ এই সময় ধরে রক্তক্ষরণ হলেও বেঁচে রয়েছেন তিনি।

ঘটনার একদিন পর তার জ্ঞান ফিরেছে। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন। প্রাথমিকভাবে তার স্মৃতিও ফিরেছে। জ্ঞান ফেরার পর ওয়াহিদা খানম ইউএনও স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

হামলার একদিন পর শুক্রবার ঢাকার নিউরো সাইন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কথা বলেন।

ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় ওয়াহিদা খানম হাসপাতালে তার স্বামী মেসবাউল হোসেনের সাথে কথা বলেছেন। জ্ঞান ফিরেই ওয়াহিদা খানম তার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করেন, কেমন আছো? এসময় স্বামী মেসবাউল হোসেন তার স্ত্রীর স্মৃতি ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করার জন্য জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমি কে?’

উত্তরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ওয়াহিদা খানম বলেন, ‘আদিয়াতের বাবা।’

বড়ভাই শেখ ফরিদ বলেন, বোন কথা বলতে পেরেছে এতে আল্লাহপাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

এ ব্যাপারে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরোসার্জন এবং গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত তার সব প্যারামিটার খুবই ভালো। সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কেমন আসে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। খুবই ভালো খবর। তার সিটি স্ক্যানের শতভাগ ভালো রিপোর্ট এসেছে।

মতামত দিন