বাতেইন্যা জুতা চোর, তাকে কি চুমো দেবো : হকার নেতার কলার ধরে ঘুষি প্রশাসক সুজনের!

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের বিরুদ্ধে এক হকার নেতার কলার ধরে তাকে ঘুষি মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।রাস্তার হকারদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবদুল বাতেন নামের এক হকার্স নেতার শার্টের কলার ধরে টানাটানি ও তাকে ঘুষি মারতে উদ্যত হয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

রোববার ‍দুপুরে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

আবদুল বাতেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হকার্স সমিতির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির হকার্স বিষয়ক সম্পাদক।

ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, তুর নাম কি? ঘুষি মেরে নাক ফেটে দেব। তোর বাপের রাস্তা না?- এসব বলতে বলতে কলার চেপে ঘুষি মারতে উদ্যত হন চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। এ পরিস্থিতিতে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হকার নেতা বাতেন হাসতে থাকেন। তাকে হাসতে দেখে সুজন ক্ষেপে গিয়ে বলেন, এই হাসতেছিস কেন?

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন কৌশলে চসিক প্রশাসককে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

জানতে চাইলে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, হকার্স বসবে ফুটপাতে, যদি কেউ রাস্তায় বসে, গাড়ি চলবে কোথায়? যে রাস্তায় বসানোর কথা বলছে, তাকে না মেরে কি আমি চুমো খাবো?

তিনি বলেন, বাতেইন্যা একটা জুতা চোর, রাস্তায় বসে কেন সে জুতা বিক্রি করবে?

এ বিষয়ে হকার্স নেতা আবদুল বাতেন বলেন, প্রশাসক বলেছিলেন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হকাররা বসতে পারবেন। নিচে (সড়কে) বসতে নিষেধ করেছিলেন। আমরাও নিচে বসিনি। জুতার দোকান আগে থেকে যেগুলো আছে সেগুলো তো আর উচ্ছেদ করা যাবে না।

তিনি বলেন, তাই আজকে প্রশাসক আসার পর আমি বলেছিলাম, রাস্তায় জুতার কোন দোকান বসবে না, নালার উপরে ছোট করে বসবে। এখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হলে তারা যাবে কোথায়? এ কথা বলার পরপরই তিনি আমাকে মারার জন্য উদ্যত হয়ে উঠেন। শার্টের কলার চেপে ধরেন এবং পুলিশে দেওয়ার জন্যও বলেন। পুলিশে দিলে কী হবে আর, না খেয়ে মরতে হবে পরিবার নিয়ে।

মতামত দিন