লক্ষ্মীপুরে ইউপি উপনির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ হতাশ বিএনপি!

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুরঃ
লক্ষ্মীপুর রায়পুর উপজেলার ৬ নং কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও চন্দ্রগঞ্জ থানার ১০ নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ উপ নির্বাচনে সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে ২০ অক্টোবর আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলেও বিএনপিকে মাঠে তেমন একটা দেখা যায়নি। প্রধান রাজনৈতিক দুই দল সমর্থিত প্রার্থীদের মাঠে উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রেখা আক্তার মাঠে আছেন কিন্তু বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম সরকার মাঠে নেই। তেমন একটা গণসংযোগ করছেন বলেও শোনা যায়নি। বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে জয়যুক্ত করার জন্য সকল অঙ্গ সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জোরালো ভাবে তারা তাদের গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাঠে উপস্থিত ভোটারদের সাথে জনসংযোগও তেমন একটা করননি। অনেক স্থানে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর দেখা পাননি তারা।

এদিকে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন বিজয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী শামসুল ইসলাম সামু বলেন-‘প্রয়াত চেয়ারম্যান শাহজাহান কামালের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ খুশী। তাই সাধারণ জনগণ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।এছাড়া নির্বাচন হচ্ছে একটি সম্মিলিত প্রয়াস, সেখানেও রয়েছে আমাদের ইস্পাত কঠিন সমন্বয়। সার্বক্ষণিক নৌকার বিজয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে এ প্রতিবেদকের নিকট হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বহু নেতা-কর্মী।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা বলেন-‘নির্বাচনী মাঠে আমরা একটি বারের জন্যও জেলাতো দূরের কথা উপজেলা পর্যায়ের কোন নেতাকেও পাইনি।’সাবেক সাংসদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া শুধুমাত্র সার্বক্ষণিক খোজঁ-খবর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ। উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহির আলম বাচ্চু বলেন-‘চরম বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হলেও দলের স্বার্থে সকলকে সংগঠিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে নির্বাচনী সফলতা অর্জনের জন্য কাজ করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হওয়ার পরও প্রার্থী আমার সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করছেন না।জানিনা এর রহস্যই বা কি!’

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানপ্রার্থী নজরুল ইসলাম সরকারকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের উপনির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল সমর্থিত ও প্রয়াত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের মতো একজন সৎ যোগ্য একনিষ্ঠ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সেই লক্ষে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম কাজ করে যাচ্ছেন।
এখানেও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কিবা বিএনপি জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মীর প্রচারণা বা গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি। ভোটাররা জানিয়েছেন বিএনপি মাঠে নেই,তাদের প্রচার-প্রচারণাও নেই। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর দেখা পাননি তারা।

মতামত দিন