ঋণের টাকা না দিয়ে ‘বন্ধু’কে খুন করে লাশ পার্সেলের চেষ্টা!

ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণদাতাকেই শ্বাসরোধে খুন করেছে বন্ধুবেশী খুনি। খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি খুনী, সেই লাশ বিশেষ কায়দায় বাক্সে ভরে কুরিয়ার করে ঠিকানাহীন মানুষের কাছে ঢাকায় পাঠাতে চেয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জালে তাকে আটকাতেই হলো। শুধু আটক নয় ক্লু ছাড়া এই হ্ত্যাতকাণ্ডের পুরো বিবরণও দিয়েছে খুনি আব্দুর রহমান।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১ টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিবরণ দেন সিআইডি’র (মেট্রো) বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ।

হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ১৪ অক্টোবর রাতে। পরের দিন ১৫ অক্টোবর সিএমপির পাহাড়তলী থানার অলঙ্কার মোড়ের আলিফ গলির সামনে থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বিজয়ের লাশ শনাক্ত করেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে পাহাড়তলী থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে ২২ অক্টোবর সিআইডি তদন্ত শুরু করার পরের দিনই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বের হয়ে আসে।

এ খুনে গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর রহমানের বাড়ি গােপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার গােলাবাড়ীয়া এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডে। তিনি ওই এলাকার আব্দুল গফুরের সন্তান। আর ভিকটিম বিজয় কুমার বিশ্বাস (৩০) কুমিল্লার চান্দিনা থানার সাওরাতলী এলাকার মৃত সন্তোষ কুমার বিশ্বাসের সন্তান ।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, ‘আব্দুর রহমান ও বিজয় কুমার বিশ্বাসের বন্ধুত্ব হয়ে ওঠে নেভী ওয়েল ফেয়ার মার্কেটে। একই মার্কেটে ব্যবসার কারণে তাদের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়। সম্পর্কের সূত্র ধরে ৮ থকে ৯ মাস আগে বিজয় কুমার বিশ্বাসের কাছ থেকে মুনাফার ভিত্তিতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋন নেয় আসামি আব্দুর রহমান। ঋণ ও মুনাফার টাকা না দেওয়ায় ভিকটিম তাকে টাকার জন্য চাপ দেয়। ১৪ অক্টোবর টাকা চাইতে আসামির অফিসে গেলে, আসামির সাথে বাকবিতণ্ডার এক মূহুর্তে ভিকটিমকে সজোরে ধাক্কা দেয় আসামি। এতে আলমারিতে প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় বিজয়। পরবর্তীতে তাকে গলায় ইন্টারনেটের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরােধ করে হত্যা করে।’

শাহনেওয়াজ খালেদ আরও বলেন, ‘হত্যার পর বিজয়ের লাশ একদিন আসামির অফিসে রেখে দেয়। পরদিন ১৫ অক্টোবর সকালে গুম করার উদ্দেশ্যে আসামি মৃতদেহ প্লাস্টিক ও চটের বস্তা করে ঢাকায় পার্সেল করে পাঠানোর চেষ্টাও করে। এতে সহায়তা করে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মাে. নাছির উদ্দিন (২৩)। পরবর্তীতে তারা এ লাশ পাহাড়তলী থানার অলংকার মােড় আলিফ গলিতে ফেলে আসে। তবে ভুয়া ঠিকানায় এ পার্সেল করার চেষ্টায় ছিল তারা।’

সিআইডি জানায়, বিজয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মাঝে কানাঘুষা শুরু হয়। এরজন্য গ্রেপ্তার আসামি আব্দুর রহমানকে দায়ী করলে তিনি সৈয়দপুর পালিয়ে যান। এবং তার ফোরম্যানকে জানায়, অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে সৈয়দপুর নিয়ে এসেছে। পরবর্তীতে সে তার বাড়ি গােপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার গােলাবাড়ীয়া চলে যায়।

পরে খুনি আব্দুর রহমান তার নীলনকশার মাধ্যমে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আত্মীয়দের বুঝিয়ে দিয়ে একেবারে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম আসলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মতামত দিন