আঁখিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয় বখাটেরা

ডেস্ক নিউজ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী আফসানা আকতার মিম ওরফে আঁখিকে উত্ত্যক্ত করায় রবিবার দুপুরে সে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়। জড়িত জেলা ছাত্রলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. রিমন পলাতক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মেথরপাড়া মহল্লার হাবিবুর রহমানের ছেলে ফয়সালকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বখাটের উত্ত্যক্ত করার কারণে আফসানা আকতার মিম ওরফে আঁখি নামে এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

অভিযোগ- শহরের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী আফসানা আকতার মিম ওরফে আঁখিকে (১৯) দীর্ঘদিন থেকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মেথরপাড়া মহল্লার হাবিবুর রহমানের ছেলে ফয়সাল এবং রামকৃষ্টপুর মহল্লার আব্দুল খালেকের ছেলে জেলা ছাত্রলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. রিমন। এদের কারণেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার স্বরুপ নগর শাহীবাগ এলাকার মো. আইয়ুব আলির ছোট মেয়ে আঁখি আত্মহত্যা করেছে।

উল্লেখ্য, ১ নভেম্বর গত রবিবার দুপুরে রিমন ও ফয়সাল আঁখিকে উত্ত্যক্ত করে এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলে। পরে তার মোবাইল ফোনে গালিগালাজও করে রিমন। এতে ক্ষোভে ও দুঃখে আঁখি দুপুর দেড়টার দিকে নিজ ঘরের দরজা লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় আঁখির পিতা আইউব আলী বাদি হয়ে রিমন ও ফয়সালসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় রবিবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ফয়সাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে এবং রিমন পলাতক রয়েছে। রবিবার সদর থানা পুলিশ ভিকটিমের বাড়ি থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল, ফাঁসিতে ব্যবহৃত শাড়ি উদ্ধার করে।

নিহত আফসানার স্বজনরা জানান, রবিবার সকাল ১০টার সময় মার্কেট যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে দুপুর ১টার সময় বাড়ি ফিরে মায়ের সামনে কান্নাকাটি করে বলে ‘আমাকে মোবাইলে আজেবাজে কথা বলে গালিগালাজ করছে অনেকক্ষণ ধরে, আমি আর সইতে পারছি না’। এরপর ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। তার মা, ভাবি ও চাচা ঘরের দরজা ভেঙে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

মতামত দিন