করোনার চেয়েও ভয়াণক ব্রুসেলোসিস ব্যাকটেরিয়ার আঘাত চীনে

উত্তর পূর্ব চীনে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত এক জটিল সংক্রামক রোগে। ব্রুসেলোসিস নামে এই জটিল ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গতবছর একটি বায়োক্যামিক্যাল ফ্যাক্টরি থেকে জীবাণু বেরিয়ে পড়ার কারণেই এই সংক্রমণ ঘটেছে। Brucell নামে একটি ব্যাক্টেরিয়ার প্রভাবেই মানুষের শরীরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে চীনের গানসু প্রদেশের রাজধানী লানঝাউ-এ সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২০ । সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত এই সংখ্যাটা ছিল ৩,২৪৫ জন । এখনও পর্যন্ত লানঝাউয়ের মোট ৫৫ হাজার ৭২৫ জনের টেস্ট করা হয়েছে ।

চীনের সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমের খবর অনুসারে, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই থেকে ২০২০ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে লানঝাউ ব্যায়োলজিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি Brucella ব্যাকটিরিয়া মারার জন্য একটি সময় ফুরিয়ে যাওয়া অর্থাৎ এক্সপেয়ারি ডেট পেরিয়ে যাওয়া কীটনাশক ব্যবহার করে। সেই কারণে কারখানার বর্জ্য হিসাবে ক্রমাগত বাইরে আসতে থাকা গ্যাসে এই ব্যাকটিরিয়া মরেনি। আর সেখান থেকেই রোগ ছড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, এই ব্যাকটিরিয়াগুলো বাতাসে ভেসে বেড়ায় এবং এটি সেই কারণেই যখন বাইরে বেরিয়ে পড়েছিল, তখন সেটি বাতাসের সঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার ফলেই হাজার হাজার মানুষের শরীরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চাষের কাজে ব্যবহার করা তরলেও এই ব্যাকটিরিয়া থাকে। যা থেকে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই রোগটিও করোনার মতো মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে স্পর্শের মাধ্যমে।

আর রোগের অন্যতম উপসর্গ হয়ে দাঁড়ায়, জ্বর, মাথা ব্যথা। এগুলো পুরুষ ও নারীর স্পর্শকাতর অঙ্গে ক্ষতি সাধান করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এই রোগে মৃত্যু নিশ্চিত বলেও জানিয়েছে সিডিসি।

ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধকারী সেন্টারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক দিলে এই রোগের থেকে মুক্তি সম্ভব। এছাড়া, যে পশুরা এই রোগে আক্রান্ত হয়, তাঁদের মেরে ফেলতে হয়। আক্রান্ত পশুর দুধ খেলেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র : নিউজ এইটটিন।

মতামত দিন