জো বাইডেন: জীবনের পরতে পরতে লুকানো সংগ্রাম আর সাহসের গল্প


নানা হিসাব নিকাশের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। পেনসিলভ্যানিয়ায় জয়ের ফলে তার মোট ইলেকটোরাল কলেজ ভোট এখন ২৭৩। জীবনে নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে আসা রাজনীতির এই মানুষটি যেন তামাম দুনিয়ার রাজনীতির এক বিস্ময়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া এ মানুষটির জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে সংগ্রাম আর সাহসের নানা গল্প।

জন্মের পর থেকে বহু বছর লড়াই করেছেন দরিদ্রতার সঙ্গে। উত্তর-পূর্ব পেনসিলভ্যানিয়ার ব্লু-কালার সিটি স্ক্যানটনে কেটেছে তার দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব। বাবা জোসেফ বাইডেন ছিলেন চুল্লি পরিষ্কারক, পরবর্তী জীবনে ব্যবহৃত গাড়ির বিক্রয়কর্মী। বাবা বাসার বাইরে থাকতেন বিশাল সংসারের ভরণপোষণ জোগাড়ে। আর মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া ‘জিন’ ফিনেগানের দিন কাটতো জো বাইডেনদের গড়ে তোলার কাজে।

‘বায়োগ্রাফি অব বাইডেন’-এ এভাবেই তার শৈশবের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। অবশ্য বাবা-মা’র ওই ত্যাগই যে বাইডেনকে কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় তথা জীবনের পথে টিকে থাকার লড়াই শিখিয়েছে সেটি অকপটে স্বীকার করেন আগামী ২০শে নভেম্বর ৭৯-তে পা দিতে যাওয়া বাইডেন। জীবনের প্রতিটি পরতে পিতা-মাতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে স্মরণ করা বাইডেন ছেলেবেলায় বহু প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়েছেন। একবার তার চেয়ে বয়সী এক ছেলে তাকে আঘাত করেছিল। এতে বাইডেনের মা এতোটাই কষ্ট পেয়েছিলেন এবং প্রতিবাদী হয়েছিলেন, সেদিন তিনি বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘ওর নাক ফাটিয়ে দাও, যেন পরদিন তুমি জঞ্জালমুক্ত অবস্থায় রাস্তায় যেতে পারো।’ স্ক্যানটনের সেন্ট পলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা বাইডেন ১৩ বছর বয়সে দেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের মেলফিল্ডে চলে যান পরিবারের সঙ্গে। এলাকাটি ছিল দ্রুত বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত সমপ্রদায়ের।

বাল্যকালে তোতলামির জন্য সহপাঠীরা তাকে নিয়ে উপহাস করতো। কখনো ‘ড্যাশ’ বলে তাচ্ছিল্য করতো তারা। কিন্তু কবিতা আবৃত্তি আর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা চর্চার মধ্য দিয়ে তোতলামির সেই প্রতিবন্ধকতাও জয় করেন বাইডেন। মাধ্যমিকে সেন্ট হেলেনা স্কুলে বাইডেনের একটাই চাওয়া ছিল মর্যাদাপূর্ণ আর্চমারি একাডেমির স্বীকৃতি অর্জন। তিনি তা-ও জয় করেছিলেন। যদিও ওই সময়ে নিজের টিউশন ফি’র অর্থ জোগাড় এবং পরিবারের ওপর চাপ কমাতে তিনি স্কুলের বাগান পরিচর্যা এবং দরজা-জানালা ধোয়া-মোছার কাজ নিয়েছিলেন। কর্মে নিয়োজিত থাকলেও তার মন পড়ে থাকতো পাঠে। দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করে কতক্ষণে তিনি পড়াশোনায় বসতে পারেন তাতেই ছিল তার পূর্ণ মনোযোগ। বাইডেনের ভাষায় এটাই ছিল ‘আমার গভীর বাসনা, আমার ওজ’ (ওজ হলো কার্টুনের একটি কাল্পনিক জগত)। বাইডেন কেবল মেধাবী শিক্ষার্থীই ছিলেন না, তার শারীরিক আকারে সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন একজন কৃতী ফুটবলার। তার কোচের ভাষায়, ১৬ বছরের কোচিং জীবনে এতো চিকনা শরীরের দুর্দান্ত পারফরমেন্স তিনি প্রত্যক্ষ করেননি। তিনি এ-ও বলেন- হাড্ডিসার বাইডেন ছিলেন তার টিমের অন্যতম সেরা পাস রিসিভার।

কলেজে প্রেম, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিয়ে: কলেজে পড়ার সময় ছুটিতে বাহামায় বেড়াতে গিয়ে নিলিয়া হান্টারের সঙ্গে পরিচয় ঘটে বাইডেনের। তারপর বহুদিন প্রেম, মন দেয়া-নেয়া। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাকে নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন বাইডেন। কথিত আছে তখন তরুণ বাইডেনকে নেইলিয়ার মা কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার জীবনের লক্ষ্য কী? বাইডেন জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চাই।’ সিগারেট, মদ বরাবরই অপছন্দ ছিল বাইডেনের। নেইলিয়ার মা তা জানতেন। সেই সময়ে তার নেশা বলতে ছিল ফুটবল ও মোটরসাইকেল জাম্পিং। সেই বিয়ের সময় বাবার কাছ থেকে ১৯৬৭ মডেলের করভেট স্টিংরে গাড়ি উপহার পেয়েছিলেন বাইডেন। যেটি বহু বছর ব্যবহার করেছেন। ১৯৭২ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে দেলাওয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর কেলেব বগসের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েন বাইডেন। অর্থাভাব, রাজনীতির ময়দানে অনভিজ্ঞতা সত্ত্বেও পারিবারিক সহায়তা ও মাঠপর্যায়ে প্রচার চালিয়ে বগসকে পরাজিত করেন বাইডেন। ডেমোক্রেট রাজনীতিক হিসেবে এটাই ছিল তার সূচনা। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাইডেনের জীবনে আসে বিপর্যয়। একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী নিলিয়া ও কন্যা নাওমির বিয়োগ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয় তাকে। সেই সময় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের জোরাজুরিতে হাসপাতালেই সিনেটর পদে শপথ নিতে হয় তাকে।

বাইডেনের স্মৃতিতে অম্লান তার হারিয়ে যাওয়া দুই সন্তান, ভোটের দিনেও স্মরণ: বাইডেন তার জীবনের মধ্যগগনে প্রিয়তমা স্ত্রী ও ১৩ বছর বয়সী কন্যা নাওমিকে হারান মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায়। ক্রিসমাস ট্রি জোগাড় করতে সপরিবারে বেরিয়েছিলেন তারা। ওই ঘটনা তাকে এতোটাই কাতর করেছিল যে, কথিত আছে সেটি তার ধর্মবিশ্বাসে নাকি চিড় ধরিয়ে দিয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকে বাস-কার এড়িয়ে চলতেন তিনি। চলাফেরা করতেন ট্রেনে। ঘটনাটি ছিল তার প্রথম সিনেট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই, ১৯৭২ সালে। সেই থেকে ৩০ বছর একাধারে সিনেট সদস্য হিসেবে ওয়াশিংটনে অফিস করেছেন।

কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও মানসিকভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। ফোনে কানেক্ট থাকা ছাড়াও প্রায়শই ৯০ মিনিটের ট্রেন জার্নি করে রাতে বাড়ি ফিরতেন। পরিবারের সঙ্গে রাত কাটিয়ে পরদিন যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হতেন। বাইডেনের জবানিতে সিএনএন-এর এক রিপোর্ট বলছে, ৩০ বছরের সিনেট জীবনে তিনি ৮ হাজার ২শ’ রাউন্ড ট্রেন ট্রিপ করেছেন কেবল পরিবারকে সময় দিতে। এক হিসাবে দেখানো হয়েছে, দিনে অন্তত ২শ’ ৫৯ মাইল পাড়ি দিতেন তিনি। বছরে তার যাত্রা ছিল গড়ে ২১৭ দিন করে। বাইডেনের পারিবারিক জীবনে ফের বিপর্যয় আসে ২০১৫ সালে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন অবস্থায়। ওই সময়ে ব্রেন টিউমারজনিত জটিলতায় তিনি তার পুত্র জোসেফকে হারান। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যস্ততম মুহুর্তেও হারিয়ে যাওয়া স্ত্রী-সন্তানদের ভুলেননি বাইডেন। তাই ভোটের দিনে তাদের বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন।

বাইডেনের বর্ণাঢ্য জীবন-সংগ্রামের বিস্তারিত: ১৯৪২ সালের ২০শে নভেম্বর জন্ম নেয়া জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার পুরো নাম জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেট দলের হয়ে লড়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রামেপর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক জীবন ছিল পুরোপুরি সফলতায় ঘেরা। ডেমোক্রেট দলের হয়ে তিনি দেলাওয়ার থেকে ১৯৭৩ সাল থেকে একটানা ২০০৯ সাল পর্যন্ত সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।

স্ক্র্যানটন, পেনসিলভ্যানিয়া ও নিউ ক্যাসল কাউন্টিতে বেড়ে উঠেছেন বাইডেন। পড়েছেন দেলাওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইনের ওপর ডিগ্রি নিয়েছেন সিরাকিউস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৭০ সালে তিনি প্রথম নিউ ক্যাসল কাউন্টির কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে তিনি দেলাওয়ার থেকে ডেমোক্রেট দলের হয়ে সিনেটর নির্বাচিত হন। বাইডেন ছিলেন আমেরিকার ইতিহাসের ৬ষ্ঠতম তরুণ সিনেটর। সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির দীর্ঘকালীন সদস্য ছিলেন বাইডেন। এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর শক্তি বৃদ্ধিকেও সমর্থন দিয়েছিলেন সে সময়। যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধে তিনি প্রভাব বিস্তারের পক্ষে ছিলেন। ২০০২ সালে ইরাক যুদ্ধের প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি আবার ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনা বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন।

বাইডেন ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এসময় তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি, অপরাধ দমন এবং নাগরিক অধিকার সমপর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করেছেন। ভয়াবহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনপ্রয়োগ সংবলিত ধারা প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছেন বাইডেন। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা আইন প্রণয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোয়ন পেতে দৌড়ে নামেন প্রথম ১৯৮৮ সালে। এরপর ২০০৮ সালে আবারো তিনি মনোনয়ন দৌড়ে নেমে ব্যর্থ হন। ২০১৬ সালে তার ছেলে ক্যান্সারে মারা গেলে তিনি রাজনীতি থেকে সাময়িক দূরত্ব বজায় রাখেন। এরপর এ বছর ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন জো বাইডেন।

তিনি সিনেটে টানা ৬ বার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যখন বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য রিজাইন করেন তখন তিনি ছিলেন ৪র্থ সিনিয়র সিনেটর। ২০১২ সালে ওবামা ও বাইডেন পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি পাস করতে ভূমিকা রেখেছেন। একইসঙ্গে লিবিয়ায় সামরিক শক্তি প্রয়োগেও সমর্থন দিয়েছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে বাইডেনকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ প্রদান করেন বারাক ওবামা।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে বাইডেন মার্কিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম বাইডেনকে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে। তবে সে সময় তিনি সপষ্ট করে বিষয়টি জানাননি। কখনো নির্বাচনে আগ্রহ দেখিয়েছেন, আবার কখনো অস্বীকারও করেছেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনে বাইডেনের অংশগ্রহণ চেয়ে ‘টাইম ফর বাইডেন’ নামে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি কমিটি গঠিত হয়েছিল।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কিকে বাইডেন ও তার পুত্র হান্টার বাইডেনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য চাপ দেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ অভিযোগ সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অপকর্মের প্রমাণ পাওয়া যায় নি। এরপর এ বছরের ১৮ই আগস্ট ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। এর আগে ১১ই আগস্ট মার্কিন সিনেটর কমালা হ্যারিসকে তার রানিংমেট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জো বাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীনই বিয়ে করেন বান্ধবী নিলিয়া হান্টারকে। ১৯৬৬ সালে বিয়ের পর তাদের ঘরে আসে তিন সন্তান জোসেফ বাইডেন, রবার্ট হান্টার ও নাওমি ক্রিস্টিনা। কিন্তু বিয়ের মাত্র ৬ বছরের মাথায় ১৯৭২ সালে স্ত্রী ও মেয়েকে হারান বাইডেন। ২০১৫ সালে তার বড় ছেলের মৃত্যু হয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। জীবনের একটি বড় সময় তিনি স্বজন হারানোর শোকে ডুবে ছিলেন। স্বজন হারানোর ঘটনা তার ধর্মীয় বিশ্বাস নাড়িয়ে দেয়। তিনি এক চিঠিতে লিখেছেন, ঈশ্বর তাকে নিয়ে ভয়ঙ্কর খেলা খেলছেন। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর বাইডেন বিয়ে করেন জিল ট্রেসিকে। তাদের সংসারে রয়েছে এক মেয়ে। তার নাম অ্যাশলে ব্লেজার। ১৯৭৫ সালে তারা প্রথম দেখা করেন। ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্কে তারা বিয়ে করেন।

১৯৮১ সালে অ্যাশলে ব্লেজারের জন্ম হয়। তিনি বর্তমানে একজন অধিকারকর্মী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। বাইডেনের ছেলে বো বাইডেন পরবর্তীতে আর্মি এডভোকেট হন। তিনি ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ক্যান্সারে উপার্জনক্ষম ছেলের মৃত্যুর পর অর্থকষ্টের চিন্তায় পড়েছিলেন জো বাইডেন। তার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তখনকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট তাকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেয়ার কথা জানিয়ে বাড়ি বিক্রি করতে মানা করেন। জো বাইডেন তার না বলা এ কথা জানান সিএনএনের সাংবাদিক গ্লোরিয়া বরগারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে। দেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন বো বাইডেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মে মাসে তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জো বাইডেন ছেলের মৃত্যুর সময়কার কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন সিএনএনকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই বাইডেন ক্রেতাদের স্বার্থ নিয়ে সক্রিয় হন। তিনি তখন থেকেই পরিবেশ নিয়ে সচেতন ছিলেন। এ ছাড়া, সরকারের আরো অধিক দায়বদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে ‘ভবিষ্যতের জন্য ২০০ মানুষ’-এর তালিকায় রাখে। ওই বছরই এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে একজন উদারপন্থি হিসেবে পরিচয় দেন। তখনো গর্ভপাত ইস্যুতে তিনি রক্ষণশীল ছিলেন। তবে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়বৃদ্ধির পক্ষে ছিলেন।

তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পুরোটা জুড়েই রয়েছে সফলতা। সেই ১৯৭০ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন।

মতামত দিন