চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কলাউজানে!

মো. এরশাদ আলম, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আদারচর লতিয়ার পাড়া এলাকায় টংকাবতী খাল থেকে স্কেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এতে হুমকিতে খাল পাড়ের ফসলী জমি এবং বসবাসরত জনসাধারণ।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান এম. ওয়াহেদের নেতৃত্বে অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, প্রায় সপ্তাহ খানেক থেকে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি মহল টংকাবতী খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে করে খালের তীরের ফসলী জমি ও খালের পাড় হুমকির মুখে পড়েছে।

শুধু তাই নয় বালুবাহী ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে এলাকার কেউ সাহস পাচ্ছেন না।

এব্যাপারে কলাউজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামশুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের চর এলাকার মাটি ক্রমাগত ভেঙ্গে পড়ায় কৃষকরা চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে খালের গর্ভে বিলীন হবে কৃষিজমি ও বসতঘর। নিঃস্ব হবে খাল পাড়ের মানুষ।

কলাউজান ইউপি চেয়ারম্যান এম. ওয়াহেদ জানান, এলাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজের জন্য কিছু বালু উত্তোলন করেছি। তবে বালু উত্তোলনের জন্য কারো কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিষেধ করার পর বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। এখন কে বা কারা বালু উত্তোলন করছেন তিনি জানেন না। তবে উত্তোলিত বালুগুলো ইটভাটায় যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান হাবীব জিতু জানান, কলাউজানের আদারচর এলাকায় টংকাবতী খাল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বালু উত্তোলনের জন্য নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও যদি বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতামত দিন