বৈদ্যঘোনায় বিরোধপূর্ণ জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণ!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের বৈদ্যঘোনা এলাকায় বিরোধপূর্ণ জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্তেও স্থানীয় প্রভাশালীদের ইন্ধনে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের বড় ছেলে ওমান প্রবাসী ওসমান গণির ক্রয়কৃত দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জায়গায় ছোট ভাই ইসমাইল বাবু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মাঝামাঝি সময়ের দিকে ওসমান গণি প্রবাসে থাকার সুবাদে জবরদখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করো। এতে বাঁধা প্রদান করে ওসমান গণির স্ত্রী সেলিনা আক্তার। তখন ইসমাইল বাবুর ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে সেলিনা আক্তারের উপর আক্রমণ করা হয়। তখন সেলিনা আক্তার মারাত্মক আহত হয়। সে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে সদর মডেল থানায় হাজির হয়ে ইসমাইল বাবুসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দ্বায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্ত থেকে মিলেমিশে বসবাস করার জন্য বলায় হয়।কয়েকদিন পর পুলিশের সেই সমঝোতাকে অমান্য করে ইসমাইল বাবু পূনরায় সেই জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণ করলে প্রতিপক্ষ সেলিনা আক্তার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে হাজির হয়ে গত ২১ অক্টোবর ২০২০ ইং তারিখ ১৪৪ ধারা চেয়ে আবেদন করেন যার মামলা নং এম,আর৯৫৯/ ২০২০। বিজ্ঞ বিচারক বাদী সেলিনা আক্তারের আবেদনের পরিপেক্ষিতে নালিশী জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক মতামত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরকে বলা হয় এবং আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশংকায় বিরোধীয় জায়গায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ আগামী ২ মার্চ ২০২১ রাখা হয়।কিন্তু এরই মধ্যে আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত ২১ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে স্থানীয় প্রভাশালিদের ইন্ধনে পূনরায় দোকান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে ইসমাইল বাবু। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, বিরোধীয় জায়গাটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই ও ছোট ভাই এর মাঝে বিরোধ চলছে। বিষয়টা থানা ও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। যতদূর জানি জায়গাটা বড় ভাই ওমান প্রবাসী ওসমান গণির। সে প্রবাসে থাকার সুবাদে ছোট ভাই ইসমাইল বাবু লোভে পড়ে জবরদখল করে দোকানঘর নির্মাণ করছে। কিছু দিন আদালতের নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখলেও গত কয়েকদিন ধরে আবারও বাবু দোকানঘর নির্মাণ করছে। এটা নিয়ে দু’পক্ষই উত্তপ্ত, যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা। সেই কারনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি নজর দেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারন জানতে ইসমাইল বাবুর মোবাইল ফোনে কল দিলে সে ফোন রিসিভ না করে বাবুর স্ত্রী সুখি আক্তার ধরিয়ে দেন। সে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তেলে বেগুন জ্বলে উঠে এবং অকথ্য ভাষায় চিৎকার করে গালাগালি শুরু করে এবং এ প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা ও নারী নির্যাতন মামলা করবে বলে হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেয়।পরবর্তী কল দিলেও মোবাইল রিসিভ করেনি।

বিষয়টি নিয়ে উক্ত মামলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সদর মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ্ ‘র কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আদালতের নির্দেশনা পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সবাইকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিরোধীয় জায়গায় কোন ধরনের স্থাপনা না করার অনুরোধ করে আসি।এর পর আদালতে আমার প্রতিবেদন দাখিল করে দিয়েছি,এখন আমি কিছু জানি না।

মতামত দিন