বোয়ালখালীর ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয় : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) আছিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে বাসভবন নির্মাণ প্রকল্পের ৮০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা পায়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

২৩ ডিসেম্বর বুধবার সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (কাউন্সিল ও সমনয়) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রচার হয়। দৃষ্টিগোচরে আসায় বিষয়টি খতিয়ে দেখি। কিন্তু বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও সত্যতা পাইনি। ওই ৮০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকের যৌথ হিসেবেই জমা আছে।’

এর আগে ওই দৈনিকটির অনলাইন ভার্সনে ‘নিজ ভবন নির্মাণের ৮০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন বোয়ালখালীর ইউএনও আছিয়া খাতুন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এরপর সংবাদ উপস্থাপনার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ দুটি পৃথক প্রকল্পের জন্য চলতি বছর জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রকল্প দুটির কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে গত জুনে প্রকল্পগুলোর জন্য টাকা বরাদ্দের বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে তাকে অবহিত করা হয়। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলন (স্টিমেট) তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউএনও’র বাসভবন নির্মাণ প্রকল্প নামে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বোয়ালখালী শাখায় যৌথ হিসাব খুলে (১২০৩৯০২০০০৪৪৭) টাকাগুলো জমা রাখা হয়।

ইউএনও আছিয়া খাতুন বলেন, ‘মোট প্রকল্পব্যয় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কিন্তু মন্ত্রণালয় একসাথে পুরো টাকা ছাড় দেয় না। প্রতি অর্থবছরে একটি প্রকল্পের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে বিষয়টি সমন্বয় করা হয়ে থাকে। বোয়ালখালী উপজেলার আলোচ্য দুটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৮০ লাখ টাকা তো কারো ব্যক্তিগত একাউন্টে জমা করা হয়নি। ওই টাকা তো ব্যাংকেই জমা আছে। সুতরাং আমাকে জড়িয়ে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে এমন ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার দেখে আমি অবাক হয়েছি। বিষয়টি অনেকটা ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ গল্পের মতোই। এধরনের ডাহা মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকারান্তরে সুস্থ সাংবাদিকতাকেই শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করবে।-বলেন আছিয়া খাতুন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (কাউন্সিল ও সমন্বয়) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর বাসভবন নির্মাণ প্রকল্পের একটি প্রাক্কলন আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ৮০ লাখ টাকা ব্যাংকেই জমা আছে। এ টাকা কারো ব্যক্তিগত একাউন্টে তো জমা হয়নি। কাজেই এখানে অনিয়মের কিছু নেই।’

বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র বাসা নিমাণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পাওয়া ৮০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংক বোয়ালখালী শাখার যৌথ হিসাবে (১২০৩৯০২০০০৪৪৭) জমা আছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক শামসুর রহমান।

এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী টাকা বরাদ্দের পর প্রকল্প দুটির আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল অফিস কর্তৃক সয়েল টেস্ট ও নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। সার্ভে সম্পন্ন হওয়ায় এলজিইডি’র ডিজাইন ইউনিট থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর নকশা পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে গত ৩০ নভেম্বর সংশোধিত ডিজাইনটিও অনুমোদিত হয়েছে। সর্বশেষ অনুমোদিত ডিজাইন অনুসারে প্রাক্কলন প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও আছিয়া খাতুন।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন বোয়ালখালীতে যোগদান করার পর হতে পরিত্যক্ত ভবনে তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। এরমধ্যে পুরাতন বাসভবনটি ভাঙার টেন্ডার হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণের জন্য ৪০ লাখ টাকা এবং চলতি ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউএনও’র নতুন বাসভবন নির্মাণের জন্য ৪০ লাখ টাকা মোট ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

মতামত দিন