হাতি রক্ষায় মানববন্ধন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অব্যাহত বন্যহাতি হত্যা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া এবং হাতি হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন প্রাণি সংরক্ষণকর্মী, গবেষক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা মানুষ।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২ পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, কবি, শিল্পী, পরিবেশবাদী ও সামাজিক এবং পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণকর্মী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সমন্বয়ে “প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় সম্মিলিত আন্দোলন” এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় “বিপন্ন এশিয়ান হাতি রক্ষায় মানববন্ধন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি”।

মানববন্ধন ও গণঅবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বন্যহাতির প্রাকৃতিক চলাচলের পথ, খাবার ও পানির উৎস রক্ষায় গহীন বনের প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, হাতির নিরাপত্তা, অভয়ারণ্যসহ বনে পর্যাপ্ত খাদ্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার দাবি জানান।

মানববন্ধনে জানানো হয়, গেল এক বছরে দেশে প্রায় ২২টি বন্যহাতি মারা গেছে। এরমধ্যে চলতি মাসে মারা গেছে চারটি হাতি।মারা যাওয়া হাতিগুলোর বেশিরভাগই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। বক্তারা আরো বলেন,গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত হাতিগুলোকে গুলি করে, বিষ প্রয়োগ এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এভাবে বাংলাদেশে হাতি হত্যা ও মারা যেতে থাকলে শিগগিরই এ দেশ থেকে প্রাণীটি বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই হাতি সংরক্ষণকে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হাতি সংরক্ষণের উদ্যোগগুলো কার্যকারিতা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা পূর্বক প্রয়োজনে সংরক্ষণ কার্যক্রমকে ঢেলে সাজাতে হবে, তাহলেই ভবিষ্যতে হাতি সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ বনবিভাগ ও প্রকৃতি-প্রাণী সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থা-আইইউসিএনের সবশেষ ২০১৬ সালের হাতি জরিপের তথ্যমতে,দেশে এশিয়ান বন্যহাতি রয়েছে ২৬৮টি। দেশের সীমান্তবর্তী পাঁচটি বনাঞ্চলে ৯৩ পরিযায়ী হাতি বিচরণ করে। এছাড়া সরকারি অনুমতিক্রমে দেশে পালিত হাতি রয়েছে ১০০টি।কিন্তু দিন দিন মারা যাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার এই সংখ্যা এখন কমছে।

হাতি সংরক্ষণে পাঁচ দফা দাবি:
১। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অব্যাহত বন্যহাতি হত্যা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে এবং হাতি হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২। বন্যহাতির প্রাকৃতিক চলার পথ, খাবার পানির উৎস গহীন বনের প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণসহ হাতির নিরাপত্তা, অভয়ারণ্যসহ বনে পর্যাপ্ত খাদ্য শৃঙ্খল নিশ্চিত করতে হবে।
৩। বন্যপ্রাণী ও হাতির নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ও কর্তব্য অবহেলার ঘটনা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ব্যর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৪। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ সংশোধন করে হাতির বাণিজ্যিক ব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
৫। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও প্রাণী কল্যাণ আইন যথাযথ কার্যকর করতে হবে।

মতামত দিন