আল্লামা শফীর শ্যালক বললেন, বাবুনগরী মিথ্যাচার করছেন

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন আহমদ শফীর শ্যালক মো. মাঈন উদ্দীন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলেনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাঈন উদ্দিন বলেন, গত ১৬ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসায় কী ঘটেছে বা কী ঘটেছিল- তা আপনারা সবাই জানেন।

কওমি ভিশনের মাধ্যমে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাটহাজারী মদ্রাসায় অবস্থান করে সব ঘটনা লাইভ প্রচার করেছেন।

আপনারা দেখেছেন শহীদ আল্লামা শফী হুজুরের রুম কীভাবে ভাংচুর ও লুটতরাজ করা হয়েছে। শফী হুজুরকে হত্যা করার জন্য বারংবার হুমকি দেয়া হয়েছে।

মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনীর, মীর ইদ্রীস, মাওলানা শহীদুল্লাহ, মাওলানা ইনামুল হাসান, মাওলানা জুনায়েদ উপস্থিত থেকে জোরপূর্বক শফী হুজুরকে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন।

তিনি আরও বলেন,আমার ভগ্নিপতী আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের জানাজাকালীন জুনায়েদ বাবুনগরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, বিএনপি, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হুজি, হিজবুত তাহরিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের পরিকল্পিত অবস্থান লক্ষণীয় ছিল।

আমার ভাগিনা মাওলানা ইউসুফ জানাজা পড়িয়েছিল। জানাজাপূর্ব ইসলামের রীতি অনুযায়ী সন্তানের বক্তব্য রাখার কথা। যদিও তিনি বক্তব্য রেখেছেন কিন্তু জুনায়েদ বাবুনগরীর দোসররা তার বক্তব্যকে সীমিত ও নির্ধারিত করে দিয়েছিল। ফলে আমার ভাগিনা তার অন্তরে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো সেদিন বলতে পারেনি।

মাঈন উদ্দিন আরও বলেন, গত বুধবার জুনায়েদ বাবুনগরী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন- শহীদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের বড় ছেলে স্বীকার করেছেন তার পিতার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে।

আমার ভগ্নিপতির মতো আমার ভাগিনাকেও হত্যা করবে বলে তার তিন ছেলেকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের সাজানো বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছিলেন।

ইতোমধ্যেই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আমার ভাগিনা ওই দিন কোন পরিবেশে বক্তব্য দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তা দেশবাসীকে জানিয়েছেন। বাবুনগরী সবকিছু জেনে-বুঝে আমার নাম ব্যবহার করে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা আল্লামা শাহ আহমদ শফী হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছি। আদালত পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্তে দোষীরা চিহ্নিত হবে; কিন্তু দুঃখের বিষয় জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হক গংরা একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন মামলা প্রত্যাহারের জন্য।

আমরা জানতে পেরেছি মাদ্রাসার অনেক নিরীহ শিক্ষক ও ছাত্রদের জুনায়েদ বাবুনগরী ব্যক্তিগতভাবে উস্কানি দিচ্ছেন।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাটহাজারী মাদ্রাসাকে ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমরা হাটহাজারী মাদ্রাসার মতো পবিত্র জায়গাকে কলুষিত করার জন্য এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শাহ আহমদ শফীকে ‘মানসিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে’ হত্যার অভিযোগ এনে গত ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন মো. মাঈন উদ্দীন। ওই মামলায় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়।

মতামত দিন