পদ্মা সেতু চালু হলে রাজস্ব আয় বাড়বে চারশ গুণ

পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বন্দরে পরিণত হবে মোংলা সমুদ্র বন্দর। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী ভারত, ভুটান ও নেপালও এই বন্দরের সুফল পাবে। রাজস্ব আয় বাড়বে চারশ গুণ। এ কারণে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও চ্যানেল খননের কাজ জোরতালে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্বল্প দূরত্ব ও কম ব্যয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকলেও অগভীর চ্যানেল আর সক্ষমতার অভাবে এতদিন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি মোংলা বন্দর। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হচ্ছে। বন্দরের আউটারবারের খনন শেষে শুরু হচ্ছে ইনারবারের খননকাজ। দ্বিগুণ হচ্ছে জেটির সংখ্যা।

২৬০০ একর আয়তনের বন্দরটিকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে জাহাজ আসা, কার্গো হ্যান্ডলিং, গাড়ি হ্যান্ডলিং ও বন্দর থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে ৮ থেকে ১০ গুণ। ২০০৯-১০ সালে জাহাজ এসেছে ১৫৬টি, ২০১৯-২০ এ দাঁড়িয়েছে ৯১০টি। আর ২০৩০ সালে লক্ষ্য ধরা হয়েছে চার হাজার।

শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, আগামী বছর যদি পদ্মা সেতু চালু হয়ে যায়, তাহলে চট্টগ্রামের চেয়ে মোংলা বন্দর নিয়ে আগ্রহ বাড়বে ব্যবসায়ীদের। পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে দেশের যে কোনো অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। ফলে মোংলা ব্যবহার করে সুফল পাবে প্রতিবেশী দেশ ভারত, ভুটান ও নেপাল।

মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, সেভেন সিস্টার ও নেপাল, ভুটানের জন্য সবচেয়ে নিকটতম বন্দর হবে মোংলা এবং এটি ব্যবহার বেড়ে যাবে বেশি।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যখন পদ্মা সেতু চালু হবে তখন আমরা অর্থনীতিতে লাভবান হবো। জনগণের কাজের সংস্থান হবে এবং ব্যবসার ব্যাপক প্রসার হবে।

উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ বন্দরে ১০ হজার জাহাজ ভিড়তে পারবে। মোংলা পরিণত হবে এ অঞ্চলের ব্যস্ততম বন্দরে।

মতামত দিন