নতুন বছর বরণে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের মিলনমেলা

নতুন বছরে শুরুতে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের মিলনমেলা বসেছে। বৃহস্পতিবার থেকে বিপুল পর্যটকের আগমন ঘটছে এখানে।

শুক্রবার নতুন বছরের প্রথম দিন রাঙ্গামাটি সরকারি পর্যটন কমপ্লেক্স, ঝুলন্ত সেতু, জেলা পুলিশের পলওয়েল পার্কসহ আশপাশের পর্যটন স্পট ও দর্শনীয় স্থানে নামে অসংখ্য পর্যটকের ঢল।

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে ভিড় জমান ভ্রমণপিপাসু অসংখ্য পর্যটক। পর্যটন স্পটগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় লোকজনও। এতে সরব রাঙ্গামাটির পরিবেশ ও প্রকৃতি। মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের জনপদ।

এদিকে শহরের আনাচে-কানাচে পর্যটন স্পটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে মর্মে অভিযোগ তুলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। রাঙ্গামাটি সরকারি পর্যটন স্পটের মনোরম ঝুলন্ত সেতুসহ আশপাশে একাধিক স্পটে গিয়ে দেখা যায়, ভ্রমণকারী বেশিরভাগ পর্যটক সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বেশির ভাগ লোকজন ঘুরছেন মাস্ক ছাড়া। রাঙ্গামাটির মনোরম ঝুলন্ত সেতু এলাকা পর্যটকে ঠাসা।

অগণিত পর্যটকের পদচারণায় মুখর গোটা পর্যটন এলাকা। সরকারি পর্যটন স্পট ছাড়াও জেলা পুলিশের পলওয়েল পার্ক, শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্পট, দর্শনীয় স্থানসহ কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ এবং সুবলং ঝরনা পর্যন্ত ভিড় জমছে প্রচুর পর্যটকের।

সরকারি পর্যটন মোটেল ছাড়াও শহরের প্রায় আবাসিক হোটেল পর্যটকে ঠাসা। শতভাগ বুকিং প্রায় আবাসিক হোটেল-মোটেলের কক্ষ। পর্যটক ছুটছেন জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত।

রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, সরকার পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার পর মৌসুম শুরু থেকেই রাঙ্গামাটিতে যথেষ্ট পর্যটকের আগমন ঘটছে। আবাসিক মোটেলেও শতভাগ কক্ষ বুকিং। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের আগমন বাড়ছে।

সরকারি ছুটির অবকাশ থাকায় নতুন বছরের প্রথম দিন অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটেছে রাঙ্গামাটি পর্যটন স্পটে। সরকারি পর্যটন খাতে এখন রাজস্ব আয় ভালো। গত মাসে এ পর্যটন স্পটে ৫ লাখ টাকার অধিক রাজস্ব আয় হয়েছে।

মোটেলে শতভাগ কক্ষ বুকিং রয়েছে। এখন পর্যটকের আগমনে এখানকার পর্যটন শিল্প প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শুক্র-শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে মুখর হয়ে উঠছে রাঙ্গামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

সরকারি নির্দেশনার স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মাস্ক ছাড়া কাউকে স্পটে প্রবেশে টিকিট দিচ্ছি না। ভেতরে গিয়ে যদি কেউ মাস্ক খুলে ফেলে, তাতে আমাদের করার কিছুই নেই। ভেতরে উন্মুক্ত। তাছাড়া আমাদের জনবল কম।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, পর্যটন স্পটে যারা ঘুরতে যাবেন তাদের অবশ্যই সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এটা সংশ্লিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত দিন