দুই ভাইয়ের সংঘর্ষে বই বিতরণ ভণ্ডুল

বগুড়ার নন্দীগ্রামে কুমিরা পণ্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে।

শনিবার দুপুরে স্কুল চত্বরে সরকারের বিনামূল্যে বই বিতরণ নিয়ে তাদের সমর্থকদের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন আহত হলে বই বিতরণ ভণ্ডুল হয়ে যায়।

একপক্ষ প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় এ খবর পাঠানোর সময় আহত পক্ষের নন্দীগ্রাম থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। ওসি কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলেন- ভাটরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আখতারুজ্জামান মানিক (৪৫), ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য বেলাল হোসেন (৪২) ও বাবু মিয়া (৪০)।

স্থানীয়রা জানান, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারী এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মজনুর রহমান মজনু সহোদর। মজনু কুমিরা পণ্ডিতপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি।

মোরশেদুল বারী ওই স্কুলের কর্তৃত্ব গ্রহণের চেষ্টা করে আসছেন। এছাড়া ভাটরা ইউনিয়নের আগামী নির্বাচনে দুই ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী। স্কুলের সভাপতি এবং চেয়ারম্যানের চেয়ার দখলে নিতে দুই ভাই ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

মজনুর রহমান মজনু শনিবার সকালে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণের আয়োজন করেন। দুপুরের দিকে তার ভাই ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারী লোকজন নিয়ে সেখানে এসে বই বিতরণের দাবি জানান।

মজনু ও তার লোকজন রাজি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এতে মজনুর সমর্থক সাবেক দুই ইউপি সদস্যসহ তিনজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দোকানঘর পজিশন বিক্রি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা ফিসহ লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এ ব্যাপারে বাদেশ আলী নামে একজন অভিভাবক সদস্য নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে অপ্রীতিকর ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মজনুর রহমান মজনু বলেন, বই বিতরণের আয়োজন করা হলেও চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীর নেতৃত্বে তার লোকজন বাধা দেন ও হামলা করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্কুলের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আগামী ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদুল বারী ষড়যন্ত্র করছেন।

মোরশেদুল বারী বলেন, এলাকাবাসী মজনুকে স্কুলের সভাপতি হিসেবে মানেন না। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এলাকাবাসী তালা দিয়েছেন। শিক্ষকদের ছাড়াই তিনি (মজনু) বই বিতরণের আয়োজন করলে এলাকাবাসী বাধা দিয়েছেন। তবে শিক্ষকরা বই বিতরণ করলে কেউ বাধা দিবেন না।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, স্কুলের অ্যাডহক কমিটির কর্তৃত্ব ও আগামী ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দুই ভাই আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এসব নিয়ে শনিবার দুপুরে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে একপক্ষের তিনজন আহত হন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মতামত দিন