সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের পথে চলবেন রেজাউল, ভোটচুরির শঙ্কায় বিএনপি’র শাহাদাত

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ৯ মাস পর ঘোষিত পুনঃতফসিল অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে। আবারও পাড়া-মহল্লায় পোস্টার, মাইকিং, গণসংযোগ শুরু করেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির শাহাদাত হোসেন নগরীর জেলরোডে শাহ আমানতের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ভোটের প্রচারণা শুরু করেন। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত পদের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচারণা শুরু করেছেন।

গত বছরের ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। করোনা সংক্রমণের কারণে ২১ মার্চ নির্বাচনটি স্থগিত করা হয়। ৫ আগস্ট সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৬ আগস্ট তিনি দায়িত্ব নেন। পুনঃতফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে রেজাউল-শাহাদাতসহ ছয় জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকিরা হলেন— বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের এম এ মতিন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ওয়াহেদ মুরাদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম। তবে পুনরায় প্রচারণা শুরুর দিনে নগরীতে রেজাউল-শাহাদাত ছাড়া অন্য মেয়র প্রার্থীদের তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীতে বাড়ির পাশে বহদ্দারবাড়িতে জুমার নামাজ আদায়, মা-বাবার কবর এবং শাহ আমানতের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন এম রেজাউল করিম চৌধুরী। এসময় তার সঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, সদস্য সামশুল আলম, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ ছিলেন।

গণসংযোগ শুরুর আগে এম রেজাউল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষের ভালোবাসা ও রায় নিয়ে প্রয়াত জননেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে এই চট্টগ্রামের উন্নয়নের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন। তৎকালীন বিএনপি সরকারের চরম অসহযোগিতা সত্ত্বেও তিনি করপোরেশনে আয়ের খাত তৈরি করে নিজস্ব বাজেটে চট্টগ্রামের অনেক উন্নয়ন করেছিলেন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী। এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে আমি কথা দিলাম, উনার মতো করেই আমি এই শহরকে গড়ে তুলব। আমি এই চট্টগ্রামকে একটি স্বচ্ছ ও স্মার্ট সিটিতে পরিণত করব। হোল্ডিং ট্যাক্স আমি বাড়াব না। জনগণের ওপর অসহনীয় কোনো হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হবে না।’

রেজাউল করিম আরো বলেন, ‘করোনার সময় খাদ্য, চিকিৎসা ও সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। মানুষ যখন বিপদগ্রস্ত ছিল তখন তারা আমাকে কাছে পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবে মানুষ বিপদে যাকে কাছে পায় তাকে হৃদয়ে স্থান দেয়। এজন্য মানুষ খুব ভালোভাবে সাড়া দিচ্ছে।’

বিএনপি নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বাধা দিচ্ছি না। বাধা দিইও নাই, দেবোও না। ইভিএমে ভোট হবে। মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে। একটা দল আছে তারা সরকারের ভালো দিক দেখে না। ওরা শুধু নালিশ, অভিযোগ আর বায়বীয় কথা বলে। দলটি ক্ষয়িষ্ণু দলে পরিণত হয়েছে। তাই খড়কুটো ধরে বাঁচতে চায়। তাদের কথায় মানুষ বিভ্রান্ত হয় না। মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

শুরুর দিনে রেজাউল নগরীর দক্ষিণ পাহাড়তলী, জালালাবাদ ও পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন।

রেজাউলের সমর্থনে শুক্রবার ‍দুপুর থেকে প্রচারণা শুরু করেছে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ। নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দান থেকে ‍শুরু হওয়া প্রচারণায় ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক বদিউল আলম বদি, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল হক রাসেল, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, দিদারুল আলম দিদার, মাহবুবুল হক সুমন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক নাছির উদ্দিন মিন্টু।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর শাহ আমানতের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। তিনি নগরীর জেল রোড, বান্ডেল রোড, বংশাল রোড, ফিরিঙ্গিবাজার মোড়, কোতোয়ালি মোড়, লালদিঘীর পাড়, বক্সিরহাট হয়ে আন্দরকিল্লার মোড়ে পথসভা করে গণসংযোগ শেষ করেন।

পথসভায় শাহাদাত বলেন, ‘গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা সমুন্নত রাখতেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলোতে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটচুরির যে মহোৎসব দেখা গেছে, তাতে ভোটাররা আতঙ্কিত। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। না হলে জনগণ ভোটকেন্দ্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। সারাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে এই নির্বাচন কমিশন কবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে অবশ্যই ধানের শীষের বিজয় হবে।’

শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, ‘মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে বিশ্বের কাছে অন্যতম পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তুলব। চট্টগ্রামকে হেলদি সিটিতে রূপান্তরিত করব। জনগণের পাশে থাকব এবং জনগণের পরামর্শ নিয়ে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করব।’

বিএন‌পির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর কমিটির সদস্য এরশাদ উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, আব্দুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দীন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, ইসকান্দার মির্জা, আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শামসুল আলম, হারুন জামান, আলী, নিয়াজ মো. খান, ইকবাল চৌধুরী ছিলেন।

মতামত দিন