রাঙ্গামাটির ডিসি’র বিরুদ্ধে ৪ মামলা নারী ‍উদ্যোক্তার!

প্রতিনিধি ॥ পার্বত্য রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামনুর রশিদ ও তাঁর বাংলোর বেশ কয়েকজন কর্মচারির বিরুদ্ধে আদালতে একে একে চারটি মামলা দায়ের করেছেন নাজনীন আনোয়ার নিপুন নামক এক নারী উদ্যোক্তা। ২০১৯ এর অক্টোবর থেকে ২০২০এর ১২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসব মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলাগুলোর বাস্তবতা ও জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের ভূমিকা তুলে ধরে ১১ জানুয়ারি সোমবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব’র এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলন করেন এই নারী উদ্যোক্তা।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে নাজনীন আনোয়ার নিপুনের আরেক ব্যবসায়িক অংশিদার এডভোকেট এডভোকেট ইমরান রাজ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে নাজনীন আনোয়ার নিপুন বলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদাসিনতায় জেলার ডিসির বাংলো পার্ক ও এর আশেপাশ এলাকা এক সময় ছিলো মাদক সেবিদের অভয়ারণ্য ছিলো। সেখানে শিখড় গেড়ে বসেছিল জঙ্গিরা।

সেই পার্কটি ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি লীজ মূলে ভাড়ায় নেই। নিবিঢ় পরিচর্যা ও নিরিখ তত্ত্বাবধানে পার্কটিতে ‘পাইরেটস’ নামে একটি দৃষ্টি নান্দনিক রেস্টুরেন্ট, কিডস জোন, সেলফি কর্ণার, ফুল ও ফলের বাগান গড়ে তুলি। একই সঙ্গে পার্ক ও রেস্টুরেন্টে বিদ্যুত ব্যবস্থার উন্নয়ন, সোলার লাইট স্থাপন এবং সিসি ক্যামেরা দ্বারা তৈরি করি নিরাপত্তা বেষ্টনী।

পাহাড় ধ্বস নিরোধের জন্য প্রায় ৭/৮ হাজার বস্তা বালির ব্যাগ দিয়ে গড়ে তুলেছি এক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। গণ শৌচাগার, ডিপ টিউবওয়েল আরও বেশকিছু উন্নয়ন করা হয় এই পার্কে। এতে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। আর এরমধ্যে দিয়ে ডিসি বাংলো পার্কটি পুরো মাদক ও অপরাধমুক্ত একটি নিরাপদ নান্দনীয় পার্ক হিসেবে পরিচিতি পায় জেলার মধ্যে।

নাজনীন আনোয়ার নিপুনের দাবি, রাঙামাটির অতিত জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি বাৎসরিক ৩৬ হাজার টাকা ভাড়া এবং পূনঃ নবায়নের শর্তে ডিসি বাংলো পার্ক লীজ দেন তাদের। সে সময় লীজের অনুমতিপত্রে শর্ত জুড়ে দেন লীজ গস্খহীতাগণ নিজ খরচে সেখানকার স্থাপনা এবং পার্ক সংলগ্ন লেকের অংশ পর্যটন বান্ধব ও সাজ সজ্জা করে নেবে।

নাজনীন আনোয়ার বলেন, জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান বদলি হয়ে সেখানে আসেন একেএম মামুনুর রশিদ। আর তিনি রেস্টুরেন্টটি নির্মানকালিন সময়ে দফায় দফায় বাঁধা দিয়ে রেস্টুরেন্ট’র চলমান কাজ বন্ধ করে দেন। শুধু তাই নয়, পানি পথে রেস্টুরেন্টে যাতায়াতের সিঁড়ি ও ব্যবহারের পানির সংযোগ বন্ধ করেন। ডিসির নির্দেশে ২০১৯ এর ১৯ অক্টোবর রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাংচুর চালায় ডিসি বাংলোর স্টেনোগ্রাফার কুতুব উদ্দিন। পার্কের প্রবেশপথে পাথর ফেলে অবরুদ্ধসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রাণির অভিযোগ তুলেন নাজনীন।

পাইরেটস রেস্টুরেন্ট এর অপর ব্যবসায়িক অংশিদার এডভোকেট ইমরান রাজ বলেন, ডিসি নিজে রেস্টুরেন্টে গিয়ে ষ্টাফদের রেস্টুরেন্ট ছেড়ে যেতে হুমকি দেন। সেসময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে গালমন্দের পাশাপাশি বেঁধে নিয়ে যাবার হুমকি দেন। এয়াড়া এডিসি ও এনডিসিকে ব্যবহার করে সেখানে সাজানো মাদক অভিযান চালিয়ে স্টাফদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেন তিনি।

এডভোকেট ইমরান রাজ বলেন, ডিসি ও তার স্টাফদের বিভিন্ন হামলা, ভাংচুর, চাদাদাবি এবং বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় এবং ডকুমেন্ট পুড়ে ফেলার ঘটনায় চার চারটি মামলা দায়ের করতে হয়েছে আমাদেরকে। এসব মামলায় বিবাদী ডিসি একেএম মামুনুর রশিদ ও ডিসি বাংলোর ৪র্থ শ্রেণীর স্টাফ জাহাঙ্গীর, কুতুব উদ্দিন, মসজিদের ইমাম, স্থানীয় চায়ের দোকানী টিপুসহ ৫/৬ জন। মামলাগুলো এখন তদন্তাদিন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নাজ আনোয়ার ও এডভোকেট ইমরান রাজ পার্বত্য জেলাটিতে জেলা প্রশাসকের স্বেচ্ছাচারিতারও অভিযোগ তুলে ধরেন।

তারা বলেন, পাহাড়ের সাধারণ জনগণকে জিম্মিকরে কথিত এলআর ফান্ডের নামে ঘুষ আদায় করছেন জেলা প্রশাসক নিজেই। এই জন্য বান্দরবান ইসলামী ব্যাংকে একটি চলতি হিসাব নাম্বার চালু রেখেছেন তিনি।

এছাড়া রাঙামাটির লেক দখলকরে স্থাপনা নির্মাণ, বাজার ফান্ডের জমি বেচাকেনায় অবৈধ হস্তুক্ষেপ, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে খামকেয়ালিপনা এবং আদালতের বিচারাধীন মামলায় অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনেন তারা।

আমরা আইনগত অধিকার পেতে আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মতামত দিন