প্রয়াত কবরীর বোয়ালখালীস্হ গ্রামের বাড়িটি এখন যেন এক দর্শনীয় স্হান

সৈয়দ মোঃ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধিঃ প্রয়াত কবরীর বোয়ালখালীস্হ গ্রামের বাড়িটি এখন যেন এক দর্শনীয় স্হান,একদিন আগেও যেটি ছিল অনেকের অজানা।

সারাহ বেগম কবরী এদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তির নাম। মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্হায় ১৬ এপ্রিল শুক্রবার রাত ১২.২০ মিঃ ৭১ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত‍্যাগ করন তিনি। বিভিন্ন মাধ‍্যমে এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর পরই সরগরম হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগ নানা মাধ‍্যম সহ সংবাদ মাধ‍্যমগুলো। পরদিন ভোর হতে না হতেই বোয়ালখালী উপজেলার ৬নং পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে আকলিয়া গ্রামস্হ কবরীদের গ্রামের বাড়িটিতে হঠাৎ বেড়ে যায় অনেকেরই আনাগোনা। ভীড় করতে থাকে অনেক সংবাদ কর্মিরাও।
এদের মধ‍্যে অনেকেই একদিন আগেও জানতেন না যে এটি আসলে দেশের কিংবদন্তি কবরীদের বাড়ী। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খোজঁ নিয়ে জানাযায় ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই এ বাড়িতেই জন্ম নেন সে সময়ের মিনা পাল আজকের কবরী। শিশুকাল থেকেই মেয়ের প্রতিভা দেখেই পিতা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল আর মাতা শ্রীমতি লাবণ্য প্রভা পাল মেয়েকে নিয়ে চলে গেলেন শহরে। লেখাপড়ার পাশাপাশি চলতে থাকে সাংস্কৃতি চর্চাও। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আবির্ভাব তার ৷ তারপর টেলিভিশন হয়ে সিনেমায়। ১৯৬৪ সালে নগরীর ফিরিঙ্গি বাজারের জে এম সেন স্কুলে ক্লাস সেভেনে অধ‍্যায়নরত অবস্হায় সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবিটির জন্যে মিনা পালের নাম পাল্ঠে হয়ে গেলেন আজকের এ কবরীতে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি কবরীকে। এভাবে ঢাকার ছবির জগতের নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু। চট্টগ্রাম থেকে মিনা পাল, তার বাবা আর দিদি ঢাকায় এসে সদরঘাটের এক হোটেলে ওঠেছিলেন। সেখান থেকে রামকৃষ্ণ মিশন রোডে প্রযোজকের অফিসে গেলেন। এক হাজার এগারো টাকা দিয়ে সাইন করলেন মিনা পাল। এটি তার জীবনের প্রথম রোজগার।

‘সুতরাং’ এ কিশোরী প্রেমিকা জরিনার ভূমিকায় এভাবে মিনা পালের অভিষেক হয়ে যায় কবরী নামে। ‘সুতরাং’ ছবি মুক্তির পর চারদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। ছবিটি সুপার ডুপার ব্যবসা করে। ওই ছবির প্রযোজক ছিলেন নিজ উপজেলা বোয়ালখালীর ধনাঢ্য ব্যবসায়ী চিত্ত চৌধুরী। সে সুবাধে

চিত্ত চৌধুরী কিশোরী এ নায়িকাকে বিয়েও করে নেন। কয়েক বছরের মধ‍্যেই সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর ১৯৭৮ সালে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন ঢাকার সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে এসে এখানে ও বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এরপর সিনেমা আর রাজনীতি নিয়েই ব‍্যস্হ ছিলেন কিংবদন্তির এ নায়িকা। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বামী সরোয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ থেকে সংসদ সদস‍্য নির্বাচিত হন। ১৭ এপ্রিল দুপুরে কবরীদের বাড়ির সামনে
কথা হয় তার মাসিতো ভাই সত্তোর্ধ বাবুল পালের সাথে। তিনি জানান সিনেমায় প্রতীষ্ঠা পাওয়ার পর গ্রামের এ বাড়িটি বিক্রি করে ওদের পুরো পরিবার ঢাকায় চলে যান ।১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের এ বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরে এখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী। এর পর আর কোন যোগাযোগ নেই তাদের সাথেআর কোন সময়ে এখানে আসেননি ও তারা।

কবরীদের বসতভিটেই বর্তমানে বসবাসকারী খোরশেদ আলম নামের পঞ্চাশোর্ধ এক ব‍‍্যক্তি জানান-তার পিতা বাদশা মিয়ার সাথে কবরীর পিতা শ্রীকৃষ্ন পালের বন্দুত্বের সুবাধে ১৯৬৫ সালে সাড়ে তিন কানির বিশাল এ বাড়টি কিনে নেন তারা। এখানে টিনের এ দোচলা বাড়িটি যেন এখন এলাকাবাসীর জন‍্য এক দর্শনীয় স্হান। অনেকেই আসছেন বাড়িটি এক নজর দেখার জন‍্য অথচ একদিন আগেও যেটি ছিল অনেকের কাছে অজানা।

মতামত দিন