মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে রাতে সমুদ্রে ঘুরিয়ে নামানো হয় মিরসরাইয়ে

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম):
মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে নিয়ে আসা ১০ রোহিঙ্গাকে নামিয়ে দেওয়া হয় মিরসরাইয়ের চরশরৎ এলাকায়। প্রতিজন রোহিঙ্গাকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইঞ্জিনচালিত বোর্ডে করে মালয়েশিয়া নেওয়ার চুক্তি করে স্থানীয় ৩ দালাল। রোববার (৩০ মে) রাতে মিরসরাই উপজেলার সমুদ্র উপকূল থেকে তিন দালালসহ ১০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। আটক রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাতজন নারী ও তিন শিশু রয়েছে। তাদের মালয়েশিয়ায় নেওয়ার কথা বলে সমুদ্রের এদিকেসেদিক ঘুরিয়ে মিরসরাই সমুদ্র উপকূলে নামিয়ে দেন দালালেরা।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিন দালাল হলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বেলাল হোসেন (২৮), মো. জুয়েল (২০) ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার দিদারুল আলম (২১)। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই আটক দালালদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে ও প্রাপ্তবয়স্ক সাত রোহিঙ্গা নারীর বিরুদ্ধে বৈদেশিক নাগরিকতা সম্পর্কিত আইনে (১৯৪৬) দুটি মামলা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, আটক তিন দালাল নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রোহিঙ্গাদের কাছে থেকে ২০ হাজার করে টাকা নেন। পরে ভাসানচর থেকে তাঁদের নৌকায় তুলে সমুদ্রের এদিক সেদিক ঘুরিয়ে ৩০ মে রাতে মিরসরাইয়ের চরশরৎ এলাকার সমুদ্র উপকূলে নামিয়ে দেন। তখন সেখানে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের হাতে আটক হন তাঁরা। এরপর তাঁদের থানায় নেওয়া হয়।
এর আগে ভাসানচর থেকে পালানোর সময় চট্টগ্রামের সন্দীপ থেকে ১৪ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় জনগণ।

এ নিয়ে গত দেড় মাসে পাঁচ দফায় ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা মোট ৩৯ জন রোহিঙ্গাকে সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিন দালাল মালয়েশিয়া পৌঁছানোর কথা বলে রোহিঙ্গাদের কাছে থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। আজ সোমবার সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়। রোহিঙ্গাদের আটকের পর উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

মতামত দিন