ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টির যত অভিযোগ

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ইব্রাহিম রাইসি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হত্যা, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক অপহরণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে যুক্ত।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এমন রিপোর্ট প্রকাশ করল।

এর আগে শনিবার বিকালে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুর রেজা রাহমানি ফাজলি এক সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম রাইসিকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ডকে উদ্ধৃত করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইব্রাহিম রাইসির বিরুদ্ধে মানবাধিকারের লঙ্ঘনের তদন্ত হওয়া উচিত। অথচ তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন! ইরানের শীর্ষপদে দায়মুক্তি আসীন হলো; এটা একটি ভয়াবহ রিমাইন্ডার।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডকুমেন্টে উঠে আসে, ইব্রাহিম রাইসি কিভাবে মৃত্যু কমিশনের (ডেথ কমিশন) সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। এই ডেথ কমিশন জোরপূর্বক অপহরণসহ ১৯৮৮ সালে এভিন ও গোহরদাশত কারাগারে হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। ইরান এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের মরদেহ পদ্ধতিগতভাবে গোপন রেখেছে।

রিপোর্টে বলা হয়, ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে ইব্রাহিম রাইসি মানবাধিকারের প্রতি দমন-পীড়ন চালিয়েছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন কট্টরপন্থি ইব্রাহিম রাইসি। ৬০ বছর বয়সী রাইসি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন। তাকে ২০১৯ সালে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ পর্যন্ত ইব্রাহিম রাইসি ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আগামী আগস্ট মাসে ইরানের এই নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেবেন।

মতামত দিন