জেল থেকে মুক্ত সেই মিনু চলে গেল না ফেরার দেশে

তিন বছর বিনা অপরাধে সাজা ভোগের পর চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল মিনু। কিন্তু জীবন তাকে আর ধরে রাখতে পারলো না। অবশেষে পৃথিবী থেকেও মুক্তি পেল মিনু। চলে গেল পরপারে। দুর্ঘটনায় কন্যা সন্তান হারানো মিনুও অবশেষে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর তাকে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে কবর দেয়া হয়। দাফনের পাঁচ দিনপর পুলিশ খুঁজে বের করলো অজ্ঞাত হিসেবে কবর দেয়া সেই নারী ছিলেন বহুল আলোচিত মিনু আক্তার। মিনুর ভাই রুবেল তার বোন মিনুর লাশটি শনাক্ত করে।

বায়েজিদ থানা পুলিশ জানায়, ২৮ জুন রাতে বায়েজিদ লিংক রোডে আমরা গাড়ির ধাক্কায় নিহত এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করি। হাসপাতালে পাঠালে তার ময়না তদন্ত হয়। ময়না তদন্ত শেষে লাশ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফন করে। অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে আইনী সব পদক্ষেপ নেয়া হয়। শনিবার পুলিশ সীতাকুণ্ডের গিয়ে ছবি দেখালে তার আপন ভাই রুবেল ছবি দেখে মিনুকে শনাক্ত করেন।

জানা গেছে, প্রতারনার শিকার হয়ে একটি হত্যা মামলায় মুল আসামীর স্থলে সাজা খাটছিলেন মিনু। মর্জিনা আক্তার নামে এক নারী ২০১৮ সালের রমজান মাসে যাকাতের টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দেবে বলে মিনুকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই মিনু আক্তারের আর হদিশ মেলেনি। জেলে থাকলেও পরিবারের লোকজন হদিশ না পেয়ে একসময় মিনুর তিন সন্তানকে একটি এতিমখানায় ভর্তি করিয়ে দেয়। সম্প্রতি তাদের এতিমখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতিমখানা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর মিনুর বড় ছেলে চা দোকানে চাকরি নেয়। অপর ছেলে নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। আর এতিমখানার পাশেই আরেকজনের বাড়িতে দুর্ঘটনায় মারা যায় শিশুকন্যা জান্নাত।

চলতি বছরের ২২ মার্চ চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঞার আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষে ১৬ জুন মিনু কারামুক্ত হন। এ সময় নিজের শিশু সন্তান জান্নাতের জন্য কারাফটকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

জানা গেছে, রহমতগঞ্জ এলাকায় ২০০৬ সালে পোশাককর্মী কোহিনুর আক্তারের লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। প্রথমে আত্মহত্যা বলা হলেও পুলিশি তদন্তে উঠে আসে কোহিনুরকে গলা টিপে হত্যা করে তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আত্মহত্যা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয় এবং মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের নভেম্বরে আসামি কুলসুম আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। সাজা পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তারের বদলে ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান মিনু আক্তার।

মতামত দিন