অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
কমলনগরে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রচার করায় ওই কর্মকর্তা এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন। ইতিবাচক সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ক্লাবে আজ সপরিবারে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন মানহানিকর সংবাদ প্রচার করায় ভুক্তভোগী খালেদ মোঃ আলী কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা খালেদ মোঃ আলী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন ইত্তেফাক, ইনকিলাব, সমকাল, মানবজমিনসহ স্থানীয় কিছু অনলাইন পাের্টালে ‘কমলনগরে র‍্যাব আতঙ্কে বাড়ী ছাড়া ৩ পরিবার’ শিরােনামে নিউজ প্রকাশিত হয় । তিনি আরো বলেন সংবাদটি আমার দৃষ্টিগােচর হয়। এতে আমার পরিবারের উপর হামলাকারীদের পরিবারের সদস্য এরফানা খাতুন শীমু, নাছিমা আক্তার, আঃ গোফরান আমাকেসহ আমার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন ও উল্টা হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্য সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা ও বানােয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করায়।

প্রকৃত পক্ষে খালেদ মোঃ আলী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। চাকুরীর সুবাধে তিনি বিভিন্ন যায়গায় কর্মরত থাকায় এবং তার ছেলেমেয়েরা ঢাকা ও চট্রগ্রাম পড়াশোনার সুবাদে গোলজার গং ও তার পরিবারের সদস্যগন খালেদ মোহাম্মদ আলীর সম্পত্তি দখল নিতে বিভিন্ন সময় তার পরিবারের উপর হামলা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে। গােলজার হােসেন, মাদকাসক্ত মােক্তার হােসেন, আবদুল গােফরান, হারুনুর রশিদ ও তাদের সন্ত্রাসীগং সহ বিভিন্ন সময় এরা তার পরিবারের উপর অমানসিক নির্যাতন করেন বলিউড সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি ৷ এর আগে কয়েকবার গোলজার হোসেন গং তাকে অনেক শারিরীক নির্যাতন করেন এবং তার স্ত্রীকে হত্যা করবে বলে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে ৷ এসব বিষয়ে সমাজে গণ্যমান্য বাক্তিদের সাথে এবং থানায় সালিশী বৈঠক হয়।

লিখিত বক্তব্যে খালেদ মাহমুদ আলী আরো বলেন ২০১৭ সালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মােঃ নিজাম উদ্দিন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গােলজার ও আমার মধ্যে একটি অঙ্গীকার নামা লিপিবদ্ধ হয় যে, গােলজার হােসেন আমার দখলে থাকা ভূমি নিয়ে কোনো সমস্যা করবে না । কিন্তু পরবর্তীতে গোলজার হােসেন ইউপি চেয়ারম্যান মােঃ নিজাম উদ্দিন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের অমান্য করে গােপনে তার ভাই মাদকাসক্ত মােক্তার হােসেনকে আমার দখলীয় নালিশি ভূমি দলিল করে দেন। এই নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ৭-৮ জন আমাকেসহ আমার পরিবারের উপর পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র দা, লােহার রড, লাঠি দিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদেরকে আহত করে। পরে স্থানীয় লােকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ নিয়ে ভর্তি করেন। যাহার ভর্তি নামঃ খালেদ মােহাম্মদ আলী রেজি নংঃ ১০৮২৮/১৬, সালমা আক্তার রেজি নংঃ ১০৮৩৫/১৬ এবং বাকী সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা করানাে হয়।

এ বিষয়ে মোক্তার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাকে বারবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

র‌্যাব-১১ সিপিসি-৩ লক্ষ্মীপুরের কোম্পানি কমান্ডার খন্দকার মো. শামীম হোসেন জানান, দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে র‌্যাবের টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। দু’পক্ষকে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিনের নিকট রেখে বলে দেওয়া হয়েছে আর যেন মারামারি না করা হয়। এবং উভয় পক্ষকে বলা হয়েছে থানায় গিয়ে আইনের আশ্রয় নিতে। মুলত আহত পক্ষ আইনের আশ্রয় নিলে গ্রেফতার আতঙ্কে অপর পক্ষ তথা আসামী পক্ষ বাড়ি ছেড়ে লক্ষ্মীপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়ায়। আমাদের কাছে যখন খবর আসে যে-একজন আসামী লক্ষ্মীপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে তখন আমরা তাকে গ্রেফতার করে কমলনগর থানায় হস্তান্তর করি। এখানে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে যথাযথ কাজ করেছি। অতএব র‍্যাব আতঙ্কে নয়, মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়ায় আসামির ৩টি পরিবার। আর র‍্যাব কারো বাড়িতে গিয়ে কোন হামলা বা কোন রকম ভয় ভীতি প্রদর্শন বা কোন রকম ক্ষতি সাধন করেনি। (তাই র‍্যাব আতঙ্কে পালিয়ে বেড়ায় ৩টি পরিবার) শিরোনামে নিউজটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

কমলনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন জানান, থানায় মামলা হওয়ায় আসামি পক্ষ পালিয়ে বেড়ানোর সময় র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে। তুচ্ছ এ ঘটনায় র‍্যাবের হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বাভাবিক নয় বলে যে মন্তব্যের কথা বলা হয়েছে তা সঠিক নয়। ক্ষতিগ্রস্থ যে কেউ র‍্যাবের সহযোগিতা চাইলে র‍্যাব সহযোগিতা করতেই পারে।

মতামত দিন