‘মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলেছে এটাই বড় কথা’

সৈয়দ মোঃ নজরুল ইসলাম এক টুকরো ভিটেবাড়ি ছিল, তা ও কর্ণফুলী নদী গিলে খেয়েছে অনেক আগেই। ঘরে উপার্জনক্ষম কোন পুরুষ নেই। স্বামী মারা গেছেন তার আগেই। ঘর করার কোন সুযোগ ও সামর্থ্যও ছিল না। ছোট্ট একটি ভাড়া ঘরে ছেলে সন্তান নিয়ে সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাতাম আর নীরবে দুহাত তুলে আল­াহর কাছে কাঁদতাম। শেষ পর্যন্ত মহান আল­াহ বুঝি আমার এ আকুতি কবুল করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে সুন্দর একটি পাকা ঘর পেয়েছি। অনেকদিন পর মাথাগোঁজার একটা ঠাঁই হয়েছে। কথাগুলো বলছিলেন উপহারের ঘরে বসবাসরত ৮নং শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের সহায় সম্বলহীন নিঃস্ব খতিজা বেগম। পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকার সত্তর বছরের বৃদ্ধ সিরাজ মিয়া বলেন-নিজের অসুস্থ সন্তানকে বাঁচাতে শেষস্ববল বাপ দাদার দেয়া ভিটেমাটি বিক্রি করে দিয়েছিলাম চাচাতো ভাইয়ের কাছে। তাড়াতাড়ি ঘর ছেড়ে দিতে তাদের অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল। বউ বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব? চিন্তায় রাতে ঘুম আসতো না। স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি, জমিসহ পাকা একখানা নতুন ঘর পাবো। শেখ হাসিনার সরকার আমাকে পাকা ঘর দিবেন। শেষ বয়সে এসে এমন একটি সুন্দর ঘরে থাকতে পারবো। এতে আমি ভীষণ খুশি। প্রানভরে দোয়া করি মুজিব কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। এমন অভিমত শুধু কি ৮নং শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের খতিজা বেগম ও পশ্চিম গোমদন্ডী এলাকার সিরাজ মিয়ার, না, নানা সুযোগ -সুবিধা সম্বলিত পাকা ঘর পেয়ে তাদের মত অনেকেই এখন খুশি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার এ স্লোগানে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ৪৭টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেয় বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন ভূমিহীনদের মাঝে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে বোয়ালখালীতে ৪৭ পরিবারকে ২ শতাংশ জায়গাসহ এসব ঘর প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নে ১৮টি, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরায় ১৫টি ও সারোয়তলী ইউনিয়নের ঐহিত্যবাহী লালার হাটে ১২টি, বেংগুরা হোরারাবাগ খিতাপচরে ২টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় এসব ঘরে বসবাসরতরা জানিয়েছে টাকা পয়সার লেনদেন ছাড়া তাদেরকে এসব ঘর প্রদান করায় সরকারের নিকট অনেক কৃতজ্ঞ তারা। স্থানিয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার ও এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানরা যেভাবে তাদের সার্বক্ষণিক খোজ খবর নিচ্ছেন তাতে ও অনেক হ্যাপী তারা।
কানুনগোপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর বুদু মিয়ার কথায় বোনের বিয়ের জন্য বাপে বিক্রি করে দিয়েছিল ভিটেবাড়ি। টাকার অভাবে গড়তে পারিনি বসতঘর। আজ এখানে কাল ওখানে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছি। শেখের বেটি আজ আমাদের জন্য একটা সুন্দর ঘর দিয়েছে, মাথা গোজার একটু ঠাই করে দিলো তাতেই আমরা অনেক খুশি।
৯নং আমুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষ্ণা সদ্দার্র নিজের নামে বরাদ্দকৃত ঘরটি ঘুরে ঘুরে দেখিয়ে বললেন, আধা পাকা ঘরটি তাঁর খুব পছন্দ হয়েছে। থাকার কক্ষের সঙ্গে লাগোয়া রান্নাঘর। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ভালো। বিদ্যুৎ আছে। পানি আছে। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন আমরা সবাই খুব ভালোভাবে থাকতে পারবো। এতেই অনেক শোকরিয়া।
এ নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার বলেন- সরকারি নীতি মালা অনুযায়ী মানসন্মত ভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর গুলো নিমার্ণ করে উপকারভোগীদের প্রদান করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গৃহহীন পরিবারগণ স্ত্রী, সন্তান নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছেন। তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সকল সুবিধাভোগীদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোজ খবর রাখছেন বলে জানান প্রতিবেদককে।

মতামত দিন