ছাগলনাইয়ায় যুবলীগ নেতা টিপুর বিরুদ্ধে এক নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

মিরসরাই প্রতিনিধি:

ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম ভুঁইয়া টিপুর বিরুদ্ধে রেহানা আক্তার সুমী (৩৫) নামে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সুমি বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে দিদারুল আলম টিপু (৪০), তার স্ত্রী লাভলী, মোঃ হানিফ বাবুল, সবুজ প্রকাশ লাল সবুজ, সেলিম, মোঃ সমির ও মাসুদ রানাসহ মোট ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে সুমী উল্লেখ্য করে, গত ৩ জুন দিদারুল আলম টিপু তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পৌরসভার পুর্ব উকিল পাড়া পেট্টোল বাংলা কবির আহাম্মদের ভাড়া বাসায় নিয়ে এসে দীর্ঘ দুই মাস ধরে তালাবদ্ধ করে আটক করে রাখে। পরবর্তীতে ফেনী শহরের পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার টিপুর গাড়ীর চালক ইমনের বাসায় নিয়ে ৬ মাস রাখে। এসময় তাকে বিয়ের কথা বললে গত ১লা মার্চ পেট্টো বাংলার বৃত্তিকা ভবনে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে আমাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠে। সেখানে চার মাস আমার সাথে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করে। এর ফলে আমি গর্ভধারন করলে টিপু আমাকে ম্যাস্ক হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়। পরীক্ষার রিপোর্টে গর্ভধারনের বিষয়টি নিশ্চিত হলে ১৪ মার্চ জোর পুর্বক ঔষধ খাইয়ে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। এরপর পুনরায় গর্ভধারন করলে আমার অনিচ্ছায় জোর পুর্বক গত ৯ জুলাই টিপু হাসপালে নিয়ে আমার গর্ভের দ্বিতীয় সন্তানটিও নষ্ট করে। এরপর তাকে আমি বিয়ের প্রস্তাব দিলে ১১ জুলাই দিদারুল আলম টিপু (৪০), তার স্ত্রী লাভলী, মোঃ হানিফ বাবুল, সবুজ প্রকাশ লাল সবুজ, সেলিম, মোঃ সমির ও মাসুদ রানা টিপুর পরিবারের সহযোগিতায় আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে আমি অসুস্থ অবস্থায় খালাতো বোনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। গত ১৫ জুলাই ওই বাসার তৃতীয় তলার এক ভাড়াটিয়ার ফোন কলের মাধ্যমে জানতে পারি টিপু সহ সহযোগিদের সহযোগিতায় ঘরের সকল আসবাবপত্র নিয়ে যায়। বর্তমানে টিপুকে বিয়ের বিষয়ে কথা বললে সে আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এর আগে টিপু এবং তার সহযোগিরা আমাকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্দ করে ঘোপাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিকের বিরুদ্ধে জোর পুর্বক সাংবাদিক সম্মেলন ও ফেনীর আদালতে নারী নির্যাতনের অভিযোগে একটি সিআর মামলা ( নং-১৯২/২০২০ইং) করায়। এ ঘটনায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযোগকারী রেহানা আক্তার সুমিকে মারধরের ভিডিও চিত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টিপু আমাকে মারধর করার সময় যে ভিডিওটি করা হয়েছে সেটা সত্য।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত দিদারুল আলম টিপু জানান, আমি সুমীকে মারধর করিনি। সে আমি ও আমার স্ত্রীর সাথে উল্টাপাল্টা আচরণ করেছে। আমার পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে সুমি।

এদিকে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ তুলে নিতে বিভিন্নভাবে সুমিকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেন সুমি।

এই বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, রেহানা আক্তার সুমি নামে একজনের একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতামত দিন