সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে জামায়াত-শিবির পরিবারের সন্তান!

সংবাদদাতা, সাতকানিয়া; বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৌরব ঐতিহ্যের পথে ছাত্রলীগকে ঘুরে দাড়ানোর কথা থাকলেও পই পই করে ছাত্রলীগের ঘাঁটিতে রুপান্তর হওয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার অন্যতম ইউনিট একসময়ের মিনি পাকিস্তান নামে পরিচিত সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে জামায়ত-শিবির পরিবারের সন্তান, ছাত্রত্বহীন, জামায়াত-শিবিরের সাথে অতি ঘনিষ্ঠ সমপর্ক আছে এমন কয়েকজনের নাম আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন মোহাম্মদ আলী যার বিরুদ্ধে সাবেক ও বর্তমান একাধিক ছাত্র নেতাদের নানা অভিযোগ রয়েছে,সাবেক এবং বর্তমান ছাত্রনেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে খবর নিয়ে জানা যায় জামায়ত-শিবিরের একাধিক নেতার সাথে তার সখ্যতা ও ঘনিষ্ঠা সম্পর্কের প্রমাণ মিলে,তাছাড়া তার পুরো পরিবার একাধিক দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে খবর পাওয়া যায়,তার পিতা মোঃএয়াকুব ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত রাজনীতির দায়িত্বশীল হিসেবে কাজ করেছেন, তার আপন ভাই ও অনেক নিকট আত্মীয় জামায়াত-শিবির, এলডিপি, ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছে।
তার বড় ভাই হানিফ এলডিপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, এলডিপি প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল অলি আহমদের ঘনিষ্টজন হিসেবে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এলডিপির জন্য কাজ করেছিলেন, তার ভাই রোকন ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন এবং জামায়াতের রাজনীতি সাথে সম্পৃক্ত আছেন, ২০১৪ সালে মানবতা বিরোধী ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামী কাদের মোল্লার রায়ের সময় তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে খুনি-বটতল থেকে আন্ধারমার দরগায় গাড়ি ভাংচুর-আগুন জ্বালাও পোড়াও কর্মকান্ড সংগঠিত হয়েছে। সাতকানিয়া থানা তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা মামলা আছে বলে জানা যায়।তার ছোট ভাই খোকন বিদেশে জামায়াত-শিবিরের অর্থযোগান দাতা ও রাজনীতি সংযুক্ত আছেন, সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যেম ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার বিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচারের মুল হোতা হিসেবে সে কাজ করেন।
তাছাড়াও মোহাম্মদ আলী কেরানীহাট মাদ্রাসায় পড়াকালীন সময়ে ছাত্র শিবিরের সাথে জড়িত ছিলেন,পরবর্তীতে দেশের বাহিরে দেড় বছর যাবত প্রবাস জীবন পার করেন। সেখান থেকে এসে সোজাসুজি জেলা ছাত্রলীগ’র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় এক নেতার সুপারিশে রাতারাতি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অন্তর্ভুক্ত হন।
ছাত্রলীগের নাম বিক্রয় করে সে মাটি ব্যবসা, কেরাণীহাটে লাইসেন্সবীহিন গ্যাসের ব্যাবসা সহ একাধিক অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন।তার নামে ঠিকাধারী লাইসেন্সও রয়েছে বলে জানা যায়। ছাত্রলীগের নানা গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ড সাথে সে নিয়োজিত আছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়স শেষ সীমা ২৯ বছর হলেও, এনআইডি সুত্রে তার বর্তমান বয়স ৩০ বছর ৯ মাস।

উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এবং দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নিকট অনুরোধ করেন

জামায়ত শিবিরের সাথে ঘনিষ্ঠ সমপর্ক আছে এমন নেতারা যদি উড়ে এসে দলের নেতৃত্বে জুড়ে বসে তাহলে প্রাণের ছাত্রলীগ সাতকানিয়ায় চরম সংকটের মুখে পড়তে পারে,চলমান এই সংকট বাস্তবায়ন হলে সাতকানিয়ায় পুনঃ জামায়ত শিবিরের ঘাটিঁ হতে পারে যার দায়ভার জেলা ছাত্রলীগকে বহন করতে হবে বলে দাবী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের।
পাশাপাশি অন্য দল থেকে এসে সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে যারা বড় পদ বাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে পড়েছে- এমন বিতর্কিত নেতাদেরও নতুন কমিটিতে জায়গা না দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ছাত্রলীগ নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়ার অনুরোধ করে বলেন কে কার আত্মীয়, কে কোন বড় নেতার কাছের লোক, সেগুলো বিবেচনা না করে
যারা রাজপথে থেকেছেন, আন্দোলন করেছেন, তারা যদি নেতৃত্ব আসে তাহলে সংগঠন যেমন শক্ত হবে; তেমনি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতও শক্তিশালী হবে।তারা বলেন তথাকথিত ভাইলীগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাতকানিয়া উপজেলা ইউনিটের সর্বোচ্চ ক্ষতি করেছে। নিজস্ব রাজনীতি, নিজেস্ব গ্রুপ টিকিয়ে রাখার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, এমন অনেককে নিজের লোক বানিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছে। কতিপয় কিছু নেতা এই ছাত্রলীগকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করেছে। যেকোনো কমিটিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের জায়গা বিবেচনার চাইতে কত টাকায় কমিটি অনুমোদন করা যায়, কে কার লোক, কাকে দিয়ে নিজস্ব ফায়দা টিকিয়ে রাখা সম্ভব এমন চিন্তাশীল নেতাদের মূল্যায়ন না করার অনুরোধ করেন।

সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন:
তথাকথিত ‘ভাইলীগ’ এর কারণে আজ ছাত্রলীগ ভুলে যায় তাঁদের ১৭ হাজার নেতাকর্মী মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে লাল-সবুজের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।এই ছাত্রলীগের ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস,স্বাধীন বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। ছাত্রলীগের আগামী কমিটিকে ছাত্রলীগের ইতিহাসের জায়গা থেকে মুল্যায়ন করতে হবে। কারণ, আমাদের আছে এক অসাধারণ নেতৃত্ব। যিনি শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই যার প্রশংসা বিদ্যমান।তাই তথাকথিত ভাইলীগ পরিহার করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের উচিত হবে- বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে ছাত্রলীগ তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি ন্যায় বিচার করা। শেখ হাসিনার উন্নয়নের দর্শন, অসাম্প্রদায়িক-উদার গণতন্ত্রের বাংলাদেশের আজকের পটভূমি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া। যেখানেই গুজব, অপপ্রচার সেখানেই ছাত্রলীগ সঠিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করাও গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্যের ছাত্রলীগের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করে এমন ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করা।

মতামত দিন