‘বার ও বেঞ্চের সমন্বিত প্রয়াসেই গতিশীল ও স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়’

আদালত প্রতিবেদক: আইনজীবীদের আচরণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মর্যাদা বিকাশের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলা জজ মো. ইসমাইল হোসেন বলেন ‘বার ও বেঞ্চের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সমন্বিত প্রয়াস একটি গতিশীল ও স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য’।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত বিগত ২০১৮ সালে তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীদের আচরণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মর্য়াদা বিকাশে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক এর সভাপতিত্বে কোর্ট হিলস্থ আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় শুরুতে বিজ্ঞ আইনজীবীদের উদ্দেশ্য স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ.এইচ.এম. জিয়াউদ্দিন, সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল আল মামুন, অর্থ সম্পাদক এস.এম. অহিদুল্লাহ, পাঠাগার সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মনজুরুল আজম চৌধুরী, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাহ্মুদ-উল আলম চৌধুরী (মারুফ) প্রমুখ। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর এডহক কমিটির সদস্য মো. মুজিবুল হক, প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ এম তোফায়েল হাসান, চট্টগ্রামের ১ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম আইন কলেজ এর উপাধ্যক্ষ বদরুল হুদা মামুন। উপস্থিত ছিলেন সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে ফাতেমা নার্গিছ হেলনা, মারুফ মোঃ নাজেবুল আলম, এস এম আরমান মহিউদ্দিন, সাহেদা বেগম, জোহরা সুলতানা (মুনিয়া), নুর কামাল, মোঃ সরোয়ার হোসাইন (লাভলু)সহ প্রায় ৩৩০জন প্রশিক্ষনার্থী বিজ্ঞ আইনজীবী।

স্বাগত বক্তব্যে এ.এইচ.এম. জিয়াউদ্দিন বলেন, আজকের প্রশিক্ষনার্থী সকল আইনজীবীদেরকে সিনিয়রদের সকল কর্মকান্ড অনুসরন ও অনুকরন করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য ও প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এর মধ্য কোন একটিতে ব্যতয় ঘটলে বিচার প্রার্থী জনগোষ্ঠী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সভ্যতার ক্রম বিকাশে বিচার কার্য শুরু হওয়ার লগ্ন থেকে আইনজীবীরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও অধিকার হারা মানুষের অধিকারকে আইনীভাবে নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁরাই ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন বাস্তবায়নের হাল ধরবেন। কঠিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রারম্ভিক লগ্ন থেকে গড়ে তুলতে হবে তাইলে সফলতা সম্ভব। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসর্ম্পক স্থাপনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। বার ও বেঞ্চের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সমন্বিত প্রয়াস একটি গতিশীল ও স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান বলেন, আইন পেশা একটি স্বাধীন ও মহৎ পেশা। আইনের শাসন ছাড়া একটি সমাজ সুন্দরভাবে চলতে পারে না। আইনজীবীগণ সমাজে অঘোষিত অভিভাবক। তারাই সমাজে যুগ যুগ ধরে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। সমাজ পরিবর্তনে এবং সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আইনজীবীদের ভ’মিকা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মুজিবুল হক বলেন, আইনজীবীরা সমাজের সচেতন অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি চট্টগ্রামের প্রতিটা আইনজীবী একজন সচেতন নাগরিক। মানবিক মূল্যবোধ ও মহত্ত্বের দিক থেকেও আমরা শ্রেষ্ঠ। শতবছরের প্রাচীন এই আইনজীবী সমিতি আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামসহ বহুল প্রত্যাশিত বিচারবিভাগ পৃথকীকরণে ভূমিকা রেখে এসেছে।

সভাপতির বক্তব্য মুহাম্মদ এনামুল হক বলেন, তরুণ আইনজীবীরা আইনাঙ্গনে বিচরণের মধ্য দিয়ে কোর্ট ও গাউনের মর্যাদা রাখতে হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে যোগ্য, সৎ এবং আর্দশবান আইনজীবী হতে হবে। আজকের তরুনরা আমাদের পূর্বসূরীদের বীরত্ব ও ঐতিহ্য সংরক্ষনের ধারক ও বাহক হবেন। এ প্রত্যাশা করে আপনাদের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখতে ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত বিচারাঙ্গন প্রতিষ্ঠায় অতীতের ন্যায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য যে, প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনীতে প্রশিক্ষনার্থী আইনজীবীদের সনদ প্রদান করেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ এম তোফায়েল হাসান ।

মতামত দিন