একযুগ ধরে খবর রাখে স্বামী: দুই সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে গৃহবধূ

মিরসরাই প্রতিনিধি:
দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার গৃহবধু বিপুলা বালা দেবীর। ১২ বছর ধরে স্ত্রী, সন্তানদের ভরণ-পোষণ তো দুরের কথা খোঁজ-খবরও রাখছে না স্বামী লিটন কান্তি দাশ। মেয়েদের নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন বিপুলা। দুই মেয়ে অশ্রু ও অহনাকে নিয়ে সামনে ঘোর অন্ধকার দেখছেন তিনি। স্বামী লিটন তাঁর খবর না রাখলেও মেয়ে দুটোর খোঁজ খবর যেন রাখে এবং শেষ সম্বল বাড়ি ভিটে বিক্রি না করে দাবী বিপুলার।

জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর মিরসরাই উপজেলার উত্তর আমবাড়িয়া গ্রামের ননী গোপাল দাশের পুত্র লিটন কান্তি দাশের সাথে চন্দনাইশ উপজেলার মাইগাতা বরমা এলাকার বিমল কান্তি দে’র মেয়ে বিপুলা বালা দে’র সামাজিকভাবে সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রীয় মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো কাটে। তাদের ঘরে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু কিছুদিন পর লিটন ও তাঁর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময় যৌতুক সহ বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে বিপুলা চট্টগ্রাম শহরে চলে যান এবং গার্মেন্টেসে চাকরী নেয়। এরপর লিটন বিপুলার শহরে বাসায় গিয়ে উঠে। আগের ভুল বুঝতে পেরে ঘর সংসার শুরু করে। এরমধ্যে বিপুলা আবারো গর্ভবতি হয়। কিন্তু সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় আবারো আগের মত নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে বিপুলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে অঙ্গীকারনামা দিয়ে জামিনে বের হয়ে আসেন। জামিনে বের হয়ে আসার পর থেকে অদ্যবধি স্ত্রী ও দুই সন্তানের কোন খবর রাখছে না।

বিপুলা দে অভিযোগ করেন, আমার স্বামী বিগত ১২ বছর ধরে আমি ও দুই সন্তানের খবর রাখছে না। আমার বড় মেয়ে অশ্রু দে (১৫) নবম শ্রেণী ও ছোট মেয়ে অহনা দে (৭) ২য় শ্রেণীতে পড়ছে। আমি সামান্য বেতনে গার্মেন্টেসে চাকুরী করে তাদের থাকা-খাওয়া, পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছি। শুনেছি তাদের বাবা আরো দুটি বিয়ে করেছে। বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ফেনীতে বসবাস করছে। আমার স্বামীর বাড়ি ভিটের চার শতক জায়গা বিক্রি করে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। যদি শেষ সম্বল বাড়ি ভিটেও বিক্রি করে দেয় আমি দুই মেয়ে নিয়ে আমি কোথায় যাবো? কোথায় থাকবো? আশ্রয় নেয়ার কোন জায়গা থাকবে না। যদি বাড়ি ভিটে বিক্রি করে দেয় তাহলে আমাদের মা-মেয়েদের মরে যাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকবে না। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
এই বিষয়ে জানতে বিপুলার স্বামী লিটনের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

মতামত দিন