৪৪ দিন পর ফিরলেন নর্থ সাউথের শিক্ষক মুবাশ্বার

ঢাকা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মুবাশ্বার হাসান সিজার ফিরে এসেছেন। গত ৭ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার ৪৪ দিন পর বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১টার দিকে তিনি রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে নিজের বাসায় ফিরে আসেন। মুবাশ্বারের বাবা মোতাহার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কারা মুবাশ্বারকে রাজধানীর বিমান বন্দর এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে একটি সিএনজি নিয়ে বাসায় পৌঁছেছেন তিনি।

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে মোতাহার হোসেন বলেন, ‘মুবাশ্বারকে কে বা কারা, কোথায় নিয়ে গিয়েছিলো সে ব্যাপারে ও কিছু বলেনি।’

তিনি আরও জানান, ‘রাত ১টার দিকে বাসায় ফোন দেয় মুবাশ্বার। সে জানায়, তার কাছে টাকা নেই। সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছে। তাই টাকা নিয়ে বাসায় নিচে থাকতে বলে। এরপর সিএনজি ভাড়া নিয়ে নিচে যাই আমরা।’

মুবাশ্বারের বরাত দিয়ে তার বাবা বলেন, ‘কে বা কারা যেন তাকে এয়ারপোর্ট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে গেছে। তাকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি টান দিয়ে চলে যায় তারা। এরপর সিএনজি নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিয়ে ফোন করে সে।’

মুবাশ্বারের বোন তামান্না তাসমিন ফেসবুকে নিজের ওয়ালে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘আল্লাহতা’লার অশেষ রহমতে গতকাল দিবাগত রাত ১টায় আমার ভাইয়া সুস্থ অবস্থায় বাসায় ফিরেছে!’

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান শুক্রবার সকালে বলেন, ‘উনি নিজে নিজে কাল রাতে ফেরত এসেছেন। আমরা শুনেছি। তার স্বজনদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তার সঙ্গে আমরা পরে কথা বলবো।’

উল্লেখ্য, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড স্যোশিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুবাশ্বার হাসান সিজার গত ৭ নভেম্বর বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ৭ নভেম্বর সকালে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসা থেকে বের হয়ে মুবাশ্বার নিজের কর্মস্থল নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে যান। সেখান থেকে বিকালে আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের একটি মিটিংয়ে গিয়েছিলেন। মিটিং থেকে বের হওয়ার পরপরই নিখোঁজ হন তিনি।

তার খোঁজ জানতে ঢাকার খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা বাবা। তবে মুবশ্বার নিখোঁজের পর কোনও মুক্তিপণ বা চাঁদা দাবি করেনি কোনও সংঘবদ্ধ চক্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন সিজার। একসময় সাংবাদিকতাও করেছেন। পরে যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করেন তিনি।

মতামত দিন