পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন, নওফেলের দাবির সঙ্গে একমত নয় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলনে হতাহতের ঘটনায় ‘পূর্বপরিকল্পিত’ কিছু পায়নি পুলিশের তদন্ত কমিটি।

অতিরিক্ত ভিড়, কিছুটা অব্যবস্থাপনা ও কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশ পথের ত্রুটির কারণেই ‘রীমা কমিউনিটি সেন্টারে’ পদদলনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তিনটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এ এস এম মোস্তাইন হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সিএমপি’র পক্ষ থেকে গঠন করা এই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন।

তবে ঘটনার দিন রাতে মহিউদ্দিনপুত্র মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, সকাল থেকে সব ঠিকঠাক মতো চলছিল। হঠাৎ করে দুপুরে এক সাথে এতো লোক কোত্থেকে আসলো? এটা কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোন কারণ আছে তা আরো তদন্ত করা দরকার।’

সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাইন হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য এককভাবে কাউকে দায়ি করার সুযোগ নেই। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রীমা কনভেনশন সেন্টারের পশ্চিম পাশের ফটক খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভেতরে ঢুকছেন। ঢালু জায়গা হওয়ায় প্রথমে এক যুবক পড়ে যান। তারপর এক জনের ওপর পড়ে আরেকজন। এভাবে পদদলনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিলেন। কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে-বাইরে, সিঁড়িতে ও বাইরের রাস্তায় সব মিলিয়ে ২২ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবকও ছিলেন পর্যাপ্ত। এক সঙ্গে অনেক লোক এসে ভিড় করায়, পেছন থেকে চাপের কারণে এবং সর্বপরি ঢোকার পথটি ঢালু হওয়ায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মোস্তাইন হোসেন আরও বলেন, ‘প্রবেশ পথের নির্মাণ ত্রুটির কারণে এখানে এতবড় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আমরা নির্মাণ ত্রুটি অপসারণের সুপারিশ করেছি। বড় কোনও অনুষ্ঠান যেন এ ধরণের বদ্ধ জায়গায় আয়োজন করা না হয় তার জন্যও সুপারিশ করেছি।’

মহিউদ্দিনের ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এই ঘটনায় নাশকতার সন্দেহ করেছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন,‘নাশকতার কোনও প্রশ্নই আসে না। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। পূর্ব পরিকল্পিত বা শত্রুতাবশত ঘটানোর মতো কিছু পাওয়া যায়নি।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার নগরীর আসকার দীঘির পাড়ে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে মহিউদ্দিনের কুলখানির মেজবানে হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে অন্তত ১০ জন নিহত হন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

মতামত দিন