রংপুরে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ প্রধানমমন্ত্রীর

ঢাকা: রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর বিশাল ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সারা দেশে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভা শেষে দলের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েক জন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র জানায়, সভায় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পরাজয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের প্রার্থীর অবস্থা ভাল ছিলো না। বিজয়ী হতে পারবে না সেটা বোঝা যাচ্ছিলো। সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এতো ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার কারণ কি? কোথায় কি সমস্যা ছিলো এটা খতিয়ে দেখতে হবে।

সূত্র আরও জানায়, সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় এই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যাদের নাম আলোচনায় আছে তাদের ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। জরিপ করা হচ্ছে। ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফশিল দেওয়ার পর আমরা প্রার্থী চূড়ান্ত করবো।

এছাড়া খুলনা, রাজশাহীসহ অন্য যে সিটিগুলোতে আগামী বছর নির্বাচন হবে, এ সব জায়গায় যারা প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করছেন তাদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং জরিপ করা হচ্ছে। এর উপর ভিত্তি করে মনোয়নয়ন দেওয়া হবে বলেও তিনি সভায় জানিয়েছেন।ওই সব সিটি করপোরেশনে যাদের নাম আসছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতেও নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সূত্র জানায়, সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যদের নেতৃত্বে বিভাগ ভাগ করে সফর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আমাদের সরকারের উন্নয়ন ও সফলতাগুলো তুলে ধরতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। আমরা যে সব উন্নয়ন করেছি, আমাদের সরকারের আমলে যে মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে সেটা বার বার তুলে ধরতে হবে।

সূত্র আরও জানায় আগামী জানুয়ারি মাস থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের এই সফর শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ ব্যাপারে তারিখ চূড়ান্ত ও টিম তৈরি করা হবে। এছাড়া আগামী ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষা দিবস এবং ১২ জানুয়ারি সরকারের ৪ বছর পূর্তি দিবস পালন করা হবে। এই দুই দিবসে ব্যাপক জমায়েতের মাধ্যমে শো-ডাউন করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

মতামত দিন