৫৬ বছর বয়সে ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন লক্ষীপুরের রিজিয়া

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:

৫৬ বছর বয়সে ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন লক্ষীপরের রিজিয়া। কিভাবে এই বয়সে এসেও একেবারে হতদরিদ্র অবস্থা থেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন রিজিয়া, তা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চমৎকার সব তথ্য।

রিজিয়া বেগমের ৬ ছেলে মেয়ে ও ৯ জন নাতী নাতনী রয়েছে। স্বামী মোঃ শাহআলম মিঝি।

লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায়র ৮ নং চরবংশী ইউনিয়নেরর চর রুহিতা গ্রামের মোঃ আব্দুল হাসেম বেপারী অভাবের সংসাররে ৬ ছেলে মেয়ের মধ্যে রিজিয়া ছিলেন ৪র্থ।

মাত্র ১৪বছর বয়সে তিনি একই ইউনিয়নের চর কাছিয়া গ্রামের মমতাজুল করিম মিঝি বাড়ি তার মেজ ছেলে মোঃ শাহ আলম মিঝির সাথে বিবাহ বন্দনে আবাদ্ধ হন। ৩ বছর পরে তারে কোল জুরে আসে ফুট ফুটে এক বাচ্চা তার নাম রাখেন মোঃ সুলাইমান। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস তার বাবার দেওয়া জমিটুকু ও তার ঘর বাড়ী সহ সেই মেঘনার কবল গ্রাসে বিলিন হয়ে যায় ।

তার পরেই শুরু হয় তাদের জীবন যুদ্ধের এক করুন ইতিহাস ।তারা লক্ষীপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘোরা ঘুরি করে জীবন যাপন করতে লাগলো, কখনও খোলা আকাশের নীচে কখনও যাত্রী ছাউনিতে কখনও বাস ষ্টান্ডে, কোথাও কোন নদীর ঘাটে, কখনও কোন বাড়ীর বারান্দায় এভাবে কোথাও কোন মাথা গোজার ঠাই না পেয়ে পরে সে চর লক্ষী গ্রামের আঃ জব্বার মাঝির খালি ভিটায় ছোট্র একটি ছোনের ঘড়ে থাকার ঠাই পান। তখন তার ৮ সদস্যের অভাবের সংসার তার স্বামী তিন মজুর আর অন্যদিকে রাজিয়া বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোন রকম দিন কাটান। কখনও অধাবেলা কখনও ২ বেলা কখনও না কেয়ে দিন যাপন করেন।

এরই মধ্যে ২২/৪/২০০৪ইং তারিখে কোডেক মোল্লার হাট শাখায় পূর্ব সমিতির বাজার মহিলা সমিতিতে ভর্তি হয়ে ১ম ফায় ৫০০০/=টাকা কৃষি প্রকল্পে ঋন গ্রহন করেন এর পর ২য় দফায় ১০০০০/=টাকা ৩য় ধফায় ১৫০০০/= টাকা ৪র্থ দফায় ২০০০০/=টাকা এভাবে ঋন গ্রহন করতে করতে মোটা মুটি খেয়ে পরে দিনযাপন করেন এবং নিজে থাকার জন্য এক খন্ড জমি ক্রয় করেন বর্তমানে সে কোডেকের কাছ থেকে গত ০৫/০২/২০১৮ইং তারিখে ২০তম ফায় ৫০০০০/=টাকা কৃষি ঋন গ্রহন করেন ।

এরই মধ্যে পল্লি কর্ম সহয়ক ফাউন্ডেশন (পি,কে,এস,এফ) ও কোডেকের কৃষি ইউনিটের আওতায় তিনি নার্সারী উপর ২ দিনের প্রশিক্ষন পেয়ে কোডেকের কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কাওছার উদ্দিন এর পরামর্শে শুরু করেন বিভিন্ন জাতের বিজ ও চারা উৎপান করা যা বিভিন্ন বাজারে বিক্রী শুরু করে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরই মধ্যে অত্র এলাকায় দেখা গেল ফুলের অনেক চাহিদা কিন্তু অত্র লক্ষীপুর জেলায় কোন ফুল চাষী খুজে পাওয়া গেলনা এবং অত্র উপজেলার কৃষি বিভাগ সহ সকলের ধারনা যে অত্র এলাকায় কোন ফুল চাষ করা সম্ভবনা ।

কিন্তু কোডেক এর কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কাওছার উদ্দিন অত্র এলাকা ঘুরে ফিরে দেখলেন যে রাজিয়ার বাড়ির উঠানে গাধা ফুলের চাষ করা সম্ভব। তার পর রাজিয়াকে বিভিন্ন ভাবে বুজাতে শুরূ করলেন কিন্তু তার কথাতে তিনি রাজি হনননি পরে এর পরে তাকে ফুলের চাহিদা ও বাজার সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার পরে তিনি রাজি হলে, পল্লি কর্ম সহয়ক ফাউন্ডেশন (পি,কে,এস,এফ) ও কোডেকের কৃষি ইউনিটের আওতায় প্রথমে তাকে ৫০০০/=টাকা অনুদান দিয়ে যশোর থেকে ৫০০ শত ইনকা গাঁধা ফুলের চারা দিয়ে শুরু করেন এই বাগান, এই বাগানে মোট শ্রম সহ অনুমানিক ৭০০০/=হাজার টাকা খরচ হয় ।

সেখান থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০০০/টাকার ফুল বিক্রয় করা হয়েছে এবং আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে ফুলের যে চাহিদা বা বিক্রিয় হবে তাতে আরো ২৫০০০ থেকে ৩০০০০/= হাজার টাকার ফুল তার বাগানে আছে। বর্তমানে সে ৭০০০/= টাকা ব্যায় করে প্রায় ৪৫০০০/=হাজার টাকার উপরে ফুল বিক্রি করবে বলে ধারনা করা হয়েছে ।

আর বিগত দিনে সে এতটুকু জায়গায় সবজি চাষ করে যে পরিমান লাভ হত সে তুলনায় তার দ্বিগুনেরও বেশি ফুল চাষ করে লাভবান হয়েছে। অত্র এলাকায় ফুলের বাগান দেখার জন্য শত শত মানুষের ভিড় জমে যায় এবং তার কাছ থেকে ফুল চাষের নিয়ম কানুন শিখে নিচ্ছেন এলাকার অনেক মানুষ গত ১/২/১৮ইং তারিখে দেখা গেল রাজিয়ার কাছে লক্ষীপুরের দালাল বাজার থেকে বাংলাশে সেনা বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত এক কর্মকর্তা (মেজর) তার কাছ থেকে ফুল চাষের পদ্ধতি শিখে নিচ্ছেন ।

গত ০৪/০১/২০১৮ইং তারিখে কোডেক প্রধান কার্যালয়ে থেকে প্রকাশনা ও সম্পদনা বিভাগের পরিচালক মোঃ আবসার হাবিব, গত ০১/০২/২০১৮ইং তারিখে পল্লি কর্ম সহয়ক ফাউন্ডেশন (পি,কে,এস,এফ) সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোঃ সরোয়ার আলম, রায়পুর উপজেলার কৃষিকর্মকর্তা মোঃ জহির, ২নং চর বংশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন পরিদর্শন করে বলেন, কোডেকের এমন মহৎ উদ্দ্যেগ প্রশংসনীয়।

রিজিয়া ফুলের বাগানে গেলে দেখা যায় শত শত মানুষের ভিড় ছাত্র/ছাত্রী দৈনিক রাজিয়ার কাছে ভিড় করে।রাজিয়ার মতে ফুল চাষ করে এত টাকা আয় করা যায় তা তার জানা ছিলনা।

রিজিয়া বলেন কোডেক যদি আমাকে কোন টাকা পয়সা নাও দেন তার পরেও সে ফুল চাষ করবেন বলে জানান।

রিজিয়া এখন নার্সারি, সবজ্বি,ও ফুল চাষ করে বেশ সুখে আছেন তার বাড়ীতে এখন তার ছেলে পুত্রবধু.নাতী, নাতনী বেড়াতে আসেন সে এখন মহা খুশি।

মতামত দিন