ভক্তদের আহ্বানে ইসরাইলে কনসার্ট বাতিল করলেন লর্ড

আগামী বছরের জুন মাসে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব শহরে একটি কনসার্টে গান গাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বিশ্বখ্যাত জনপ্রিয় গায়িকা লর্ড। কিন্তু, লর্ড ইসরাইলি সরকারের অত্যাচারী নীতিকে সমর্থন করছেন বলে তার ভক্তরা অভিযোগ করলে জনপ্রিয় এই গায়িকা সেখানে কনসার্ট বাতিল করার ঘোষণা দেন।

রোববার কনসার্টটির আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন যে লর্ড ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন না।

তেলআবিবের কনসার্টটির খবর জানার পর লর্ডের ভক্তরা তাকে একটি চিঠির মাধ্যমে ইসরাইলের জাতি-বিদ্বেষমূলক আচরণের প্রতি সমর্থন না জানানোর আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইল নির্মম দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলেও লর্ডকে অবহিত করেন তার ভক্তরা।

ফিলিস্তিনের অবস্থা সম্পর্কে তাকে ‘শিক্ষিত’ করে তোলার জন্য লর্ড তার ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

ভক্তদের উদ্দেশে করা টুইটারে লর্ড লিখেন, ‘মনে থাকল! এই বিষয়ে অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি এবং বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা চিন্তা করেছি। আমাকে জানানোর জন্য ধন্যবাদ। আমি সবসময়ই শিখছি।’

‘তেলআবিব, পৃথিবীর এই সুন্দর জায়গাটাতে যাওয়া আমার বহুদিনের স্বপ্ন। সেখানে গান গাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোয় আমি খুবই দুঃখিত। আশা করছি একদিন আমরা সবাই একসাথে নাচতে পারব’ যোগ করেন লর্ড।

যে দুই ভক্ত লর্ডকে চিঠিটি লিখেছেন তাদের একজন ইহুদি এবং আরেকজন মুসলিম। একারণে তাদের মতামতকে লর্ড গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তারা।

খোলা চিঠি দেয়ার ওয়েবসাইট দ্য স্পিনফ-এ তারা লেখেন, ‘আজ লাখ লাখ মানুষ ইসরাইলের সরকারের অত্যাচার, জাতিগত নিধন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দখলদারি ও জাতিবিদ্বেষী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’

 এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক বয়কট একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হবে বলে তারা মন্তব্য করেন। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের বর্ণবিদ্বেষী আচরণ বন্ধে এমন পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছিল এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধেও এমন পদক্ষেপ কার্যকরী হবে বলে তারা আশা করেন।

চিঠিতে লর্ডের ভক্তরা বলেন, ‘আমরা দেখেছি আপনি আপনার প্ল্যাটফর্মে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ, লিঙ্গ বৈষম্য ও শ্বেতাঙ্গদের বাড়তি সুবিধা দেয়ার প্রতিবাদ করেছেন। আমরা আপনাকে ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই কাজ করার অনুরোধ করছি।’

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমদের পবিত্র শহর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ফিলিস্তিনিরা রাজপথে নেমে আসলে নিষ্ঠুর দমনপীড়ন চালায় দখলদার বাহিনী।

মতামত দিন