চলতি মাসেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ৪০০ পদে স্থায়ী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

বিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৩০ বছর পর চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) চসিকের জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) সম্প্রতি অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া চসিকের নিয়োগ বিধিও চুড়ান্ত হচ্ছে।এরপর এ মাসেই শুন্যপদে লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিবে সিটি কর্পোরেশন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে আন্ত:মন্ত্রনালয়ের এক বৈঠকে নিয়োগ বিধি ‍চুড়ান্ত করার বিষয়ে আইন মন্ত্রনালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নিয়োগ বিধি চুড়ান্ত হলেই এ মাসের সিটি কর্পোরেশনের শুন্য পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইন মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি রুমানা আহমেদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব আশরাফ আহমেদ, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চসিক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ১৯৮৮ সালের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত সকল শুন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার জন্য চসিককে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। চিঠিতে শুন্য পদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।চসিক থেকে শুন্যপদের তালিকাও পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানায়।কাঠামোভুক্ত আনুমানিক শুন্যপদের সংখ্যা ৪ শতাধিক বলে জানা গেছে।

তবে চসিকের কোন অনুমোদিক নিয়োগ বিধি না থাকায় এতদিন নিয়োগ নিয়ে জটিলতায় ছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নিয়োগ বিধি নিয়ে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেয়া হলেও সুফল মেলেনি।চসিকের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিলেও নানান কারনে তা সফল হয়নি বলে সূত্র জানায়।

এসব পদের মধ্যে কিছু সংখ্যক বর্তমান কর্মরতদের মধ্যে পদোন্নতির মাধ্যমে দেয়া হবে বলে চসিক সূত্র জানায়।

চসিক সূত্র জানায়, চসিকের জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) সম্প্রতি অনুমোদন হয়েছে।১৯৮৮ সালের প্রস্তাবিত এ জনবল কাঠামো সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

চসিক সচিবালয় বিভাগ সূত্র জানায়, তৎকালীন মেয়র মাহমুদল ইসলাম চৌধুরীর আমলে ১৯৮৮ সালে প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোতে মোট ৩ হাজার ১৮০টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে চারশোর অধিক পদ শুন্য আছে। যদিও এসব পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে চসিকে স্থায়ী এবং অস্থায়ীসহ প্রায় ৯ হাজারের মত জনবল রয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, শুন্য পদ পূরণের অনুমতি ও তালিকা চেয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বরাবর চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত সকল শুন্য পদ দ্রুততার সাথে পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। চিঠিতে, সিটি করপোরেশনে শুন্য পদের তালিকা তিন দিনের মধ্যে প্রেরণের জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বিষয়টি অতীব জরুরি’।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের শূন্যপদগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৮৮ সালের অর্গানোমের অনুমোদন নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা ছিল। সে অর্গানোগ্রাম মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানতো না। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ অর্গানোগ্রাম অনুমোদন দিয়েছে। আমরা চারশোরও অধিক শুন্য পদের তালিকা গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।এতে কীভাবে শুন্য পদ পূরণ করা হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রভৃতি বিষয়ে নির্ধারিত হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ‘চসিকের অর্গানোগ্রাম নিয়ে একটা জটিলতা ছিল। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ অর্গানোগ্রামের ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি শুন্য পদ পূরণের জন্য নির্দেশনা এসেছে। আমরা শুন্য পদের একটি তালিকাও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। শুন্য পদ নিয়োগের জন্য ‘সরাসরি নিয়োগ’ এবং ‘পদোন্নতি’ এ দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে।

আটকে আছে ২০১৭ সালের জনবল কাঠামো : ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল ১৩ হাজার ৪৫৫ জনবলের একটি নতুন অর্গানোগ্রাম স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পঠিয়েছিল চসিক। ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (প্রস্তাবিত) সাংগঠনিক কাঠামো–২০১৭’ শিরোনামে এই অর্গানোগ্রাামে চসিকের সচিবালয় বিভাগ ভেঙ্গে প্রশাসন বিভাগ, পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ করার প্রস্তাব ছিল। এছাড়া প্রকৌশল বিভাগ থেকে আলাদা করে নগর পরিকল্পনা বিভাগ নামে একটি নতুন বিভাগের প্রস্তাব ছিল।

চসিকের সচিবালয় সূত্র জানায়, নতুন অর্গানোগ্রামে প্রশাসন বিভাগে ৯২৬ জন, রাজস্ব বিভাগে ৬৩৭ জন, শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ২৩৮ জন, হিসাব রক্ষণ বিভাগে ১১২ জন, স্বাস্থ্য বিভাগে ১ হাজার ৯৭০ জন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৫ হাজার ৩০৫ জন (ডোর টু ডোর বাদে), প্রকৌশল বিভাগে ২ হাজার ৭৫ জন এবং নগর পরিকল্পনা বিভাগে ১৯২ জন জনবল চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে ওই অর্গানোগ্রাম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে অর্থ বিভাগ এবং আইন বিভাগ অথবা মন্ত্রিপরিষদ হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাবে এই অর্গানোগ্রাম। ফলে দীর্ঘ সূত্রিতায় এই অর্গানোগ্রামের বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।

১৯৮৮ সালের জনবল কাঠামো নিয়েও আছে প্রশ্ন : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যমান জনবল কাঠোমো (১৯৮৮) নিয়েও আপত্তি ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। নিয়োগ বিধি ছাড়া ওই জনবল কাঠামোর বিপরীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গত বছর চসিকের কাছে তথ্য চেয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর প্রেক্ষিতে চসিক জবাব পাঠায় মন্ত্রণালয়ে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার স্বাক্ষরিত চসিকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘চসিকের সাংগঠনিক কাঠামো ১৯৮৮ সালে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের পর ১৯৯৩ সালে নিয়োগ বিধি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। নিয়োগ বিধি অনুমোদন সময় সাপেক্ষ বিধায় ১৯৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নিয়োগবিধি সরকারি গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় সৃষ্ট প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদসমূহ পূরণের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বাছাই কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। এই কমিটি দুটির নির্দেশনা মোতাবেক পূর্বের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ‘দ্যা লোকাল কাউন্সিল সার্ভিস রুলস ১৯৬৮ এর তফশিল অনুসরণ করে নিয়োগ যোগ্যতা নির্ধারণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতো।

মতামত দিন