অনন্য বাঁশখালী: খুলে দিবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

ওয়াসিম আহমেদ:

আমরা আজ আমাদের প্রাণপ্রিয় বাঁশখালী নিয়ে কথা বলবো। চলুন এক নজরে বাঁশখালী সম্পর্কে জেনে আসি। বাংলাদেশের স্বয়ং সম্পূর্ণ জেলা বলা হয় চট্টগ্রামকে। আর চট্টগ্রামের কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ উপজেলা হওয়ার দাবি রাখলে সেটা আমাদের জন্মভূমি বাঁশখালী-ই। পশ্চিমে সমুদ্র আর পূর্বে পাহাড়ে বেষ্ঠিত ৩৯২ বর্গকিলোমিটার এই উপজেলাটি প্রাকৃতিকভাবেই অপার সম্ভাবনায় ভরপুর। কিন্তু প্রকৃতি আমাদের দিতে কৃপণতা না করলেও আমাদের অযোগ্যতার কারণেই সম্ভবনার মাঝে শূণ্য আমরা।দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে পিছিয়ে আছি আমরা।
চট্টগ্রামের একমাত্র অখন্ডিত উপজেলা হলো বাঁশখালী। বাঁশখালী থানা গঠিত হয় ১৯১৭ সালের ১৫ জুলাই এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।

বাঁশখালী, চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। সময়ের দিক থেকে প্রায় ঘন্টা খানেক দূরত্বে অবস্থিত।এ উপজেলার উত্তরে আনোয়ারা উপজেলা, পূর্বে সাতকানিয়া উপজেলা , দক্ষিণে পেকুয়া উপজেলা এবং পশ্চিমে কুতুবদিয়া চ্যানেল, কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলা ও বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়ন রয়েছে।২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাঁশখালী উপজেলার জনসংখ্যা ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ৯১৩ জন। কিন্তু বর্তমানে সে জনসংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ।

আমরা আজ তিনটি দিক নিয়ে কথা বলবো, প্রথমত শিক্ষা, দ্বিতীয়ত পর্যটন ও তৃতীয়ত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই তিনটি বিষয় নিয়ে আপনাদের একটি ত্রিভুজ পরিকল্পনা দেখাবে। চলুন শুনি,,,,,

প্রথম ধাপ শিক্ষা:
শিক্ষায় আমাদের কি রয়েছে? প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে ৩ টি ডিগ্রী কলেজ, ১ টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও ১টি মহিলা কলেজ। এছাড়াও ৭টি ফাজিল মাদ্রাসা, ২টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, ১টি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪টি আলিম মাদ্রাসা, ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি দাখিল মাদ্রাসা ও ১৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
পাশের উপজেলার তুলনায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্টান কম নেই। তারপর ও আমাদের স্বাক্ষরতার হার মাত্র ৩৬.৩০%। আজ আমরা সবার সাথে নয় , জনসাধারণের সাথে নয় , জন অসাধারণদের সাথে বসেছি। আপনারা হলেন ১০০জনের একজন নয়। ৩৬ জনের একজন। আপনার আলোকিত , আর বাকিরা অন্ধকারে ,,, আমরা কি পারিনা তাদেরও আলোকিত করতে?? চলুন একবার সবার সাথে সাথী হয়ে বদলে দিয় বাঁশখালী,,, বদলে যাক বাংলাদেশ।

এবার আমরা আমাদের চারপাশের সাথে তুলনা করি। আমাদের উত্তরে আনোয়ার উপজেরার স্বাক্ষরতার হার ৪৭.২০% । পশ্চিমের কুতুবদিয়া উপজেলার স্বাক্ষরতার শতকরা ৩৮ ভাগ। আর পূর্বের সাতকানিয়ার শতকরা ৬৭ ভাগ। সবশেষে আমাদের দক্ষিণে চকরিয়ার স্বাক্ষরতার হারও শতকরা ৬৭ভাগ।

দ্বিতীয়ত পর্যটন: বাঁশখালীর সবচেয়ে সম্ভবনার দ্বার হলো পর্যটন। পর্যটনের অপার সম্ভবনার নাম বাঁশখালী। সেটি এখন আমাদের আবেগের কথা নয়, সেটা এখন সর্বজন স্বীকৃত। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বাঁশখালী পর্যটন আলোচনার বিষয় বস্তু। শুধুমাত্র পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম ব্যাংকক শহর। আর আমাদের কাছেই রয়েছে জলন্ত উদাহরণ কক্সবাজার ।

তুমি যদি সমুদ্র দেখতে চাও,তাহলে কক্সবাজার যেতে হবে। আর পাহাড় দেখতে হলে ,তোমাকে হয়তো বান্দরবান বা রাঙামাটি যেতে হবে। আর পাহাড় – সমুদ্র একসাথে দেখতে হলে বাঁশখালী আসতে হবে।

আপনাদের বাঁশখালীর পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক বিচ রয়েছে। বিচ ঘেঁষে হয়েছে বেড়ি বাঁধ। আর বাঁশখালীকে দু’ভাগ করা জলকদর খাল তো রয়েছেই। এই জলকদও খালের অনেক পর্যটনী বৈশিষ্ট রয়েছে। এই খালের তেমন কোনো স্রােত নেই। অনেকটা স্থির জলাশয়ের মতো। ফলে এটিকে মশ্য চাষের প্রকল্পের আওতাধীন করা যাবে। এই খাল সাঙ্গু নদী থেকে শুরু হয়ে বাঁশখালীকে দু’ভাগ করে দক্ষিণে সাগরে যুক্ত হয়েছে।

তাহলে একটু ভাবুন….পশ্চিম বাঁশখালী কি একটি দ্বিপ নয়?,,,খাল থেকে শুরু সমুদ্রে শেষ। জলকদর খালকে মশ্য প্রকল্পের আওয়াতায় এনে পশ্চিমের বেড়িঁবাধকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক করলে প্রথমত এটি পর্যটন দ্বীপ হবে। দ্বিতীয়ত মংশ চাষের ফলে মিঠা পানির সংকট কমবে। ফলশ্রুতিতে পশ্চিম বাঁশখালীর হাজারো একর আবাধে পরিণত হবে।

বাঁশখালী ঢুকতেই চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান, বাঁশখালী ইকো পার্ক, তারেখ পার্ক তো আছেই। পশ্চিম বাঁশখালী পর্যটন দ্বিপ হলে পূর্বের দিকের পাহাড়ী দিক আরো বাড়বে।

এবার আসি আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায়: যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমরা অনেক ভাগ্যবান এজন্য , আমাদের ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সড়ক বাঁশখালীর ঠিক মাঝ বরাবর গেছে। এরকম নজির বাংলাদেশের কোনো উপজেলায় নেই। এক রাস্তায় পুরো বাঁশখালী ভ্রমণ করা যাবে। এমন সুন্দর ও সম্ভবনার মূল সড়ক থাকার সত্ত্বেও আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার হাল কেমন সেটা বর্ণনা করার দরকার নেই। আপনারা নিজেরায় তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী।

একটি দীর্ঘদিনের সিনিডকেট জিম্মি করে রেখেছে শুধু পুরো বাঁশখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নয়, শুধু বাঁশখালীবাসীকে নয়, গলা টিপে ধরেছে পুরো বাঁশখালীর সম্ভবনাকে ।

সবশেষে শুনবেন …দ্যা ম্যাজিক ট্রাইঙ্গেল প্লান ফর বাঁশখালীঃ
আমাদের মূল সড়কের অন্যতম বাহন হলো বাস। প্রথমত ফিটনেসবিহীন ও অদক্ষ চালকের রোড় হলো বাঁশখালীর মূল সড়ক। নতুন ব্রিজ থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সকল বাসা ছেড়ে যায়। আপনাকে শিক্ষার হার দেখতে হবে না, নতুন ব্রিজের বাসগুলো তুলনা করলে বুজবেন বাঁশখালীর অবস্থান কোথায়? দ্দধুর লক্কও যক্কও বাসেই শেষ নয়, সবচেয়ে কম দূরত্বে বেশি আসতে হয় তাও আমাদের। এমনকিতা তিন চারগুণ ছাড়িয়ে যায়….

যদি বাঁশখালী রোড় দিয়ে সিন্ডিকেট বাস ছাড়া বড় বড় প্রাইভেট কোম্পানির বাসগুলো চলে, তাহলে প্রথমত অতিরিক্ত ভাড়া কমবে। কমবে সময়ের দূরুত্বও ।ফলে আধা ঘন্টা দূরত্বে শহরে পোঁছানো যাবে। আমাদের শিক্ষার হার শূণ্য নয়। আমাদের ৩৬ জন শিক্ষিত রয়েছে॥ যদি আধা ঘন্টার মধ্যে শহরে যাওয়া যায়, তাহলে কোনো বাঁশখালীর সন্তানকে কষ্ট করে শহরে থেকে পড়াশোনা করতে হবে না। প্রথম উচ্চশিক্ষিতরা গ্রামে থেকে পড়াশোন করতে পারবে। উরা গ্রামে থাকে , তাহলে সামাজিক পরিস্থিতি বদলাবে, শিক্ষার হারও স্বাভাবিকভাবে বাড়বে। এচাড়াও অনেকে শহরে গিয়ে পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারে। তাদের ঝড়ে পড়ার সম্ভবনা শূণ্যতে নেমে আসবে।

যদি মূল সড়কের অবকাঠামোগত ও পরিস্থিতি পাল্টায় । তাহলে পশ্চিম বাঁশখালীর পর্যটন সম্ভবনা বাস্তবায়ন খুব সহজ হয়ে উঠবে। আমরা যদি পরিবহন সমস্যা সমাধান করতে পারি এবং পর্যটন সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে পারে। তাহলে বাঁশখালী হবেমড়ের উপজেলা।

পরামর্শঃ পরিবহন সমস্যা সামাধান করে, পর্যটন খাতকে জাতীয় ভাবে উপস্থাপন করা এবান্ত প্রয়োজন। যদি যোগাযোগ দুর্ভোগ কমে তাহলে, উচ্চ শিক্ষিতরা গ্রামে থাকবে। সামাজিক চিত্র পাল্টাবে আর শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে উঠবে। শিক্ষিত প্রজন্ম কখনো অনুন্নত থাকতে পারেনা। ইতিহাস সাক্ষী।

যোগাযোগ ব্যবস্থা পাল্টালে প্রধান কৃষি ফসল পান, ধান, চা, আলু, আদা, শাকসবজি।প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পেঁপে, তরমুজ, লেবু, পেয়ারা।প্রধান রপ্তানিদ্রব্য পান লিচু, চা, আদা, চিংড়ি,ইলিশ ও আরো অনেক সামুদ্রিক মাছ।সহজে শহুর পোঁছানো সম্ভব হবে। বদলে যাবে অর্থনীতির দ্বারও।

মতামত দিন