‘নির্বাচনে লুটেরা বিএনপিকে বর্জন করুন’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরির পরিণতি ভোগ করছেন। আর তার দলের লোকেরা সেই চোরের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন। এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনে লুটেরা বিএনপিকে বর্জন করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার ওয়াদা করান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের জনসভায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপির মাথাতেই পচন রয়েছে। তাদের নেত্রী এতিমের টাকা লুটে খান, সাঙ্গপাঙ্গরা তাহলে কী করবে?’

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সময়ের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের ধ্বংসাত্মক ও নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি আগামী সিটি করপোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীবাসীর কাছে নৌকায় ভোট চান। তাদের নৌকায় ভোট দিতে হাত তুলে ওয়াদা করান।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং পরিচালনা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

এতে আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, মাহবুবউল আলম হানিফ, ‍জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী জেলা সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী প্রমুখ।

চুরি ও লুটপাট বিএনপির চরিত্র

বক্তব্যের শুরুতেই উন্নয়নের নানা প্রকল্পের নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাজশাহীবাসীর জন্য উপহার নিয়ে আসি। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে রাজশাহীকে করেছিল সন্ত্রাসের নগরী। সৃষ্টি করেছিল বাংলাভাই। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাবা-মা আওয়ামী লীগ করার অপরাধে ৬ বছরের একটা শিশুকেও গণধর্ষণ করা হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করে আপনাদের দিয়েছে শুধু লাশ উপহার। সৃষ্টি করেছে বিধবা, আর পিতৃহারা সন্তান।

তিনি বলেন, উন্নয়ন তারা করতে পারেনি। করেছে বোমাবাজি। একই দিনে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়েছে। শুধু ২০০১ সালেই না, ২০১৩-১৪ সালেও ৫০০ মানুষ হত্যা করেছে তারা। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা কোন ধরনের রাজনীতি?

শেখ হাসিনা বলেন, এই বিএনপি মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। লুটপাট করতে পারে। আপনারা জানেন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হয়েছেন। কেন? ’৯১ সালে এতিমখানা তৈরি করবে বলে বিদেশ থেকে টাকা এনেছে। কিন্তু, সেই এতিমখানা কই? কেউ এতিমখানার ঠিকানা জানে না। সে টাকা নয়ছয় করে লুটপাট করে খেয়েছে। আজকে ২৭ বছর পর বলে টাকা তো আছে, সুদে-আসলে বেড়েছে। এতিমের টাকা এতিমের কাছে যায়নি। সে টাকা লুট করে খেয়ে নিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সেই মামলায় তার সাজা হয়েছে। তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। লুট করা, চুরি করা এটাই তো তাদের চরিত্র।

তিনি বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল ৫ বার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমেরিকান ফেডারেল কোর্ট ও সিঙ্গাপুর কোর্ট তার ছেলেদের দুর্নীতির কথা বলেছে। তাদের পাচার করা টাকা আমরা ফেরত এনেছি।

চোরের জন্য আন্দোলন করছে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিএনপি নেতারা চোরের জন্য আন্দোলন করে। এতিমের টাকা খাওয়া কোরআন শরীফেও নিষেধ আছে। কোরআন শরীফে বলা আছে, এতিমের ভাগ তাকে দাও। ২৭ বছরেও এতিমের ভাগ এতিমকে দিতে পারেনি। সে টাকা নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। আজকে তারই শাস্তি ভোগ করছেন বিএনপি নেত্রী। আমার তার কাছে প্রশ্ন, এতিমখানার ঠিকানাটা কোথায়? সেখানে ক’জন এতিম আছে? এতিম একটা টাকাও কি পেয়েছে? পায়নি। এতিমের টাকা সুদে-আসলে বেড়েছে, ভোগ করেছেন খালেদা জিয়া, তার পরিবার ও দলের লোকজন। এতিমকে বঞ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। আমরা তত্ত্বাবধায়কের আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ট্রাস্ট করেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার তন্নতন্ন করে খুঁজেছে, সেখানে কোনো রকম অনিয়ম পায় কিনা? আমাদের কোনো মতে মামলাতে ফাঁসাতে পারে নিনা! এতটুকু অনিয়ম তারা সেখানে পায়নি। ভালো করে তদন্ত করে দেখেন, আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে আসি। তাদের সম্পদ কেড়ে খেতে নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়ন করি, তারা ধ্বংস করে। ২০২১ সালের মধ্যে কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। সব ঘরে আলো জ্বালাব।

শেখ হাসিনা বলেন, এই উত্তরবঙ্গে এক সময় মঙ্গা ছিল। মানুষ খেতে পারত না। এখন আর সেই মঙ্গা নেই। মানুষ খেতে পারে।
ধরলেও ১০, করলেও ১০

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে মোবাইল ফোন কে দিয়েছে? এটাও আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে। ’৯৬ সালে এসে মোবাইল বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। আজকে সবার হাতে মোবাইল ফোন। বিএনপি আমলে তো মোবাইল ফোন কেউ চোখে দেখেনি। কারণ, একটা মোবাইল ফোন কিনতে লাগত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক মিনিট কথা বললে দিতে হতো ১০ টাকা। ধরলেও ১০ টাকা, করলেও ১০ টাকা।

 

নূহ নবীর আমল থেকেই নৌকা বিপদের কাণ্ডারি

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের বলব, নৌকা আপনাদের মার্কা। নৌকা জনগণের মার্কা। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। এদেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই স্বাধীনতা পেয়েছে। নূহ নবীর আমল থেকেই বিপদে রক্ষা করেছে নৌকা।

তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনে নৌকায় ভোট চাই। উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে, মানুষ যেন শান্তিতে থাকে। এজন্য নৌকায় ভোট দিন। হাত তুলে ওয়াদা করেন, নৌকায় ভোট দেবেন?

এ সময় জনসভায় আগতরা হাত তুলে নৌকায় ভোট দেয়ার অঙ্গিকার করেন।

এরপর শেখ হাসিনা বলেন, বাবা-মা, ভাই-বোন হারিয়ে সব কষ্ট বুকে নিয়ে সারাদেশে ঘুরেছি। একটাই লক্ষ্য, বাবার স্বপ্নে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে চাই। আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের দিতে এসেছি। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি।

এরআগে বিকেল তিনটা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা জনসভা মঞ্চে পৌঁছান। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ নিয়ে গেল ৭ বছর ২ মাসে পঞ্চমবারের মত রাজশাহী সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত পবার হরিয়ান চিনিকলের জনসভায় যোগ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

 

মতামত দিন