ভোটের স্বার্থে মওদুদ-রিজভী জেলের বাইরে: কাদের

‘অন্যায় করলেও’ নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীকে জেলে পাঠানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তার দাবি, এই দুইজন যত কথা বলবেন, আওয়ামী লীগের তত লাভ।

শুক্রবার বিকালে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের মতবিনিময়ে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদেরের দাবি, বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতা জেলের বাইরে থাকলে তাদের ‘মিথ্যাচারের জন্য’ বিএনপির ভোট কমবে।

৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়ার পর থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ দাবি করে আসছেন, প্রতি দিন আওয়ামী লীগের ১০ লাখ করে ভোট কমছে আর সমপরিমাণ ভোট বাড়ছে বিএনপির। আর নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিতে দুই-তিনটা প্যাথলজিক্যাল লায়ার আছে। এরা ঘরে থাকে, ঘরে বসে বসে ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছে।’

‘দেখুন তারা বলে দেশে গণতন্ত্র নাই। গণতন্ত্র যদি না থাকত, মত প্রকাশের স্বাধীনতা যদি না থাকত, মিডিয়ার স্বাধীনতা যদি না থাকত তবে ফখরুল, মওদুদ, রিজভীরা আজকে যেসব গালিগালাজ করছে… আদালতের বিচারককে প্রতারক বলে, এরপরেও তারা ঘরে আছে। তাদের কেউ কিছু বলছে না।’

‘আমরাও বলছি, ওরা যত বেশি কথা বলবে বিএনপির তত বেশি ভোট কমবে। মওদুদ আহমদ এবং রিজভী এই দুইটা যত বেশি কথা বলবে বিএনপির ভোট তত বেশি কমবে।’

‘এজন্য আমরা বলি এরা অন্যায় করুক, অপরাধ করুক, যত বেশি বাজে কথা বলুক এদরকে গ্রেপ্তার করার দরকার নেই, এরা বাইরেই থাক।’

কাদের বলেন, ‘এরা (মওদুদ ও রিজভী) বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগের জন্য ভালো। এদের বাজে বাজে কথাগুলো জনগণ থেকে বিএনপিকে সরিয়ে দিচ্ছে। আর বিএনপির বড়বড় কথার জবাব দেবো জনগণের শক্তি দিয়ে।’

প্রতিদিন বিএনপির ১০ লাখ কমে ভোট বাড়ার বিষয়ে কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছেছেন, তার ধারে কাছে যাওয়ার ক্ষমতা বিএনপির নেই।’

‘দেখুন, দুর্নীতিবাজদের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণ যাবে না। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিদিন ১০ লাখ করে ভোট বাড়ছে, আর দুর্নীতির জন্য বিএনপির ১০ লাখ ভোট কমছে। দুর্নীতিবাজদের পক্ষে দেশের লোক থাকে না।’

‘সংকটমুক্ত নয় আওয়ামী লীগ’

আওয়ামী লীগ সংকটমুক্ত নয় জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সুসময় আমাদের জীবনে খুব বেশি সময়ের জন্য আসেনি। ক্ষমতায় থেকেও আমরা যে সুসময়ে আছি এ কথা বলা যাবে না। এখনো মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখি।’

‘এখনও আমরা যে সংকটমুক্ত সে কথা দাবি করা যাবে না। এখনও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু আমাদের শক্তি হচ্ছে দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার সময়ে দেশের উন্নয়ন ও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের জনগণ এতটাই খুশি যে তারা এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

‘যে কারণে আজকে জঙ্গিবাদী শক্তি অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। তাদের যে স্বক্রিয় উত্থান সেটা আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আমাদের পুলিশ, র‌্যাব আমাদের সেনাবাহিনী তাদের বিরোচিত বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী অনেকটাই আগের চেয়ে দুর্বল।’

আপাতত দৃশ্যমান জঙ্গি তৎপরতা না থাকলেও সন্তুষ্ট চিত্তে থাকতে রাজি নন কাদের। বলেন, ‘তারা একবারেই তাদের পথ থেকে সরে গেছে এই কথাটা মনে করার কারণ নেই। আজকে এই শক্তি এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে তারা একবারে নিষ্ক্রিয় কিন্তু বাস্তবে আমার কাছে প্রতি মুহূর্তে মনে হয় এই জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী তলে তলে আরও ভয়াবহ কোনো আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, এটা আজকেও আমাদের ভাবতে হবে।’

জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীকে বিএনপি পৃষ্ঠপোষকতা করে দাবি করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এই অপশক্তি তাদেরই বন্ধু। এই অপশক্তি তাদেরই দোসর।…আজ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে।’

খালেদা জিয়াকে দণ্ড দিয়ে দেয়া রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির কর্মসূচি পালনের সমালোচনাও করেন কাদের। বলেন, ‘বাংলাদেশে বিচার বিভাগ যেখানে স্বাধীন, সেখানে বিচার বিভাগের একটি রয়েকে কেন্দ্র করে যেভাবে তারা তাণ্ডব চালাচ্ছে… যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের দুতাবাসে পর্যন্ত হামলা চালিয়েছে।’

বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলন অশান্তির ক্ষেত্র সৃষ্টি করছে মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘যেই দল হাইকোর্টের সামনে প্রিজন ভ্যানে হামলা করেছে, তারা যখন বলে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, এটা কি কারো বিশ্বাস হয়? এই বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে?’

‘আমরা (আওয়ামী লীগ) আগের চেয়ে সতর্ক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও আগের চেয়ে তৎপর । যে কারণে এই অপশক্তি সাহস পাচ্ছে না। ওই হাইকোর্টের সামনে ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তির সাহস তাদের নেই। এই জন্য কৌশল নিয়েছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে মতবিনিময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

মতামত দিন