চবিতে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টর কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা এবং শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় আট শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না- এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব হেলথ, রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিননারি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বহিষ্কারাদেশ আজ থেকেই কার্যকর হবে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী। সভা শেষে সাংবাদিককদের তাৎক্ষণিক এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধের বিশ্ববিদ্যালয়ের, প্রক্টর কার্যালয়ে ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের সাইদুল ইসলাম সাঈদ, অর্থনীতি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের লোকমান হোসাইন, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের একই শিক্ষাবর্ষের কনক সাহা জয় ও নাট্যকলা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল হুদা লোটাস। তারা সবাই নগর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

অন্যদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাজিদ খানকে অপহরণ করে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মো. শফিকুল ইসলাম, একই ইনস্টিটিউটের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ইফতেখার উদ্দিন রিয়াজ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ইয়াসিন আরাফত এবং চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-অর্থ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের সাব্বির হোসাইন অনিককে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সবাই আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী শাখা ছাত্রলীগের একাংশের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বহিষ্কৃত আট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাগ্রহণে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৭ সালের অনুষ্ঠিত পৃথক দুইটি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শান্তি বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আইন বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাগ্রহণে আইনশৃঙ্খলা পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছি ওই সিদ্ধান্তে। পুলিশ যে কোন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের ক্ষমতা রাখে।

মতামত দিন