‘খালেদা জিয়া বললে ১ ঘণ্টায় আরও বেশি টাকা জমা হতো’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি বলতেন কোনো কাজে দুই কোটি টাকা লাগবে, তাহলে বিএনপি অফিসের সামনে দুটি বাক্স রাখলে এক ঘণ্টায় তার চেয়ে বেশি টাকা জমা হতো।

আজ শনিবার সকালে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত মানববন্ধনে নজরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আপোসহীন নেত্রী। তিনি সংবিধান অনুযায়ী ২৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। কখনো পরাজিত হননি। তিনি আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি ও জনগণকে দুর্বল করা যাবে না। সামনের দিনে ভোটের ফলাফল পাল্টানো যাবে না। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছে আগামী দিনে খালেদা জিয়াকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানাবে। এখন সুযোগ শুধু ভোট দেওয়ার। আর সে জন্য আমরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে সঙ্গে নিয়ে নিরপেক্ষ সরকারে অধীনে ভোটের দাবী আদায় করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার স্বামীর নামে গঠিত ট্রাস্টের টাকা আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন, এটাও দেশের কোনো মানুষ বিশ্বাস করে না। কারণ এ টাকা ব্যবহার বা ব্যাংক হিসেবে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এমনকি বাদীপক্ষও খালেদা জিয়া জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।’

‘খালেদা জিয়া যদি বলতেন তার দুই কোটি টাকা লাগবে কোনো কাজে, তাহলে বিএনপি অফিসের সামনে দুটি বাক্স রাখলে এক ঘণ্টায় তার চেয়ে বেশি টাকা জমা হতো। আসলে টাকা আত্মসাৎ কিছু নয়। নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা এক এগারোতে শুনেছি বাক্স করে তিন কোটি টাকা আর চেকের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এসবের ঘটনায় মামলা হয়েছে, অথচ সে সব মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় বাতিল করা হয়েছে। আবার কোনোটা নিজেদের পছন্দের বিচারক নিয়োগ করে খারিজ করা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে দায়ের হওয়া মামলাগুলো চলমান রেখেছে।’

‘বর্তমান সরকারে মন্ত্রী ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েও পদে বহাল থাকেন। আর খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এমনকি এখন পর্যন্ত তার জামিন দেয়া হচ্ছে না।’

সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নাসিম প্রমুখ।

মতামত দিন