জাফর ইকবালের পেছনেই নির্বিকার দাঁড়িয়ে হামলাকারী!

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতের আগে ঠিক তার পেছনেই নির্বিকার দাঁড়িয়ে ছিলেন হামলাকারী যুবক।

শনিবার বিকেল পাঁচটা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অধ্যাপক জাফর ইকবাল ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন। তার মাথার পেছনে আঘাত করা হয়েছে।

এর পরপরই শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তবে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী ওই হামলাকারীর পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এটুকু নিশ্চিত করেছেন, হামলাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নন। বাইরে থেকে এসে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আগেও তাকে কখনো ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি।

হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয়। এতে দেখা গেছে, অধ্যাপক জাফর ইকবাল মুক্তমঞ্চের সোফায় বসে আছেন। তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছেন ওই যুবক। তার দু’পাশে আরও দু’জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুক্তমঞ্চের সামনের খোলা মাঠে রোবট প্রতিযোগিতা চলছিল। এই অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে মঞ্চের সোফায় বসেছিলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল।

মাঝে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অনুষ্ঠানে বিরতি দেয়া হয়। এ সময় ৮/১০ পুলিশ মঞ্চের পাশেই অধ্যাপক জাফর ইকবালের নিরাপত্তায় ছিলেন। তাদের পাশ কাটিয়ে দু’তিনজন যুবক তার ওপর হামলা চালায়।

মুহূর্তের মধ্যে কালো টি-শার্ট পরিহিত ড. জাফর ইকবালের শরীর রক্তে ভিজে যায়। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করে এক হামলাকারীকে ধরে ফেলে বেধড়ক পিটুনি দেয়। তবে বাকিরা পালিয়ে গেছেন।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, হামলাকারী সবারই বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। পূর্বকল্পিতভাবে তারা স্যারকে ঘিরে ছিলেন এবং হামলার সুযোগ খুঁজছিলেন।

তবে হামলাকারী ঠিক কতজন ছিলেন, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (গণমাধ্যম) আবদুল ওয়াহাব  জানিয়েছেন, ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় একজনকে শিক্ষার্থীরা ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

এদিকে, হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একটি টিম সিলেট রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক জানান, শনিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেয়া হয়।

মতামত দিন