মগজে আঘাত লাগেনি, মানসিকভাবেও চাঙা জাফর ইকবাল

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল মানসিকভাবে চাঙা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) প্রধান কার্ডিয়াক অ্যান্ড কনসালটেন্ট সার্জন মেজর জেনারেল মুন্সি মো. মজিবুর রহমান। তিনি জানান, মাথায় আঘাত করা হলেও সে আঘাত খুলি ভেদ করে যায়নি।

শাজহালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের এই অধ্যাপকের জ্ঞান আছে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছেন বলেও জানিয়েছে সিএমএইচের এই চিকিৎসক। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সিএমএইচে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার সিলেটে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুরি নিয়ে এক যুবকের হামলার পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাত ১২টার পর বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদকে আনা হয় ঢাকা সিএমএইচে।

ওসমানী মেডিকেলের চিকিৎসকরাই জাফর ইকবাল শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছিলেন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তাকে আনা হয় ঢাকায়।

রবিবার সকালে ঢাকা সিএমএইচের প্রশাসনিক ব্লকের তৃতীয় তলায় দেশবরেণ্য এই মানুষটির শারীরিক অবস্থা জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসক মুন্সি মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘ড. জাফর ইকবালের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণরূপে আশঙ্কামুক্ত। তার জ্ঞান রয়েছে, তিনি সচেতন।’

‘জাফর ইকবালের মাথার পেছনে ছোট চারটি, পিঠের ওপরের দিকে একটি এবং বাম হাতে একটি আঘাত করা হয়েছে। মাথার আঘাত স্কিন (চামড়া) ও মাসলে (পেশী) লেগেছে, ব্রেনে (মগজ) লাগেনি। পেটেও কোন আঘাত নেই। সকালে তিনি পানি জাতীয় খাবার খেয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সকাল নয়টার দিকে মেডিকেল বোর্ডের  সদস্যরা জাফর ইকবালকে দেখতে যান। তিনি সুস্থ আছেন। তার মানসিক অবস্থা ভালো এবং স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছেন।

গত রাতে তাকে যখন এই শিক্ষাবিদকে এই হাসপাতালে আনা হয় তখন সব বিভাগের ২০ থোক ২২ জন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। এরপর মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

জাফর ইকবালকে আর কতদিন হাসপাতালে থাকতে হবে এমন প্রশ্নে চিকিৎসক মজিবুর রহমান বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য আরও কয়েকদিন তাকে হাসপাতালে রাখতে হবে।’

তার সঙ্গে কেউ দেখা করতে পারবেন কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার খাতিরে তার সঙ্গে কারও দেখা না করাই ভালো।’

মতামত দিন