কুমিল্লায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম, রেলপথ অবরোধ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমনকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দুপুরে উপজেলা সদরের একটি রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।আহত আব্দুর রাজ্জাক সুমন নাঙ্গলকোট পৌর এলাকার খাটাচো গ্রামের আবদুল্লাহর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাক সুমন রোববার দুপুরের দিকে নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরের বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে ঢোকেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে এসে ওই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে তাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নাঙ্গলকোট পৌর বাজারে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিকেল ৪টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের নাঙ্গলকোট স্টেশন এলাকা অবরোধ করে রাখে। এতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও সাগরিকা ট্রেনটি নাঙ্গলকোট স্টেশনে এবং লাকসামে পাহাড়িকা, হাসানপুরে মহানগর গোধুলী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া ঘটনার পর নাঙ্গলকোট বাজারে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে ব্যবসায়ীরা সকল দোকান-পাট বন্ধ করে দেন। এ সময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মামুন অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, সুমনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে এই হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের আনোয়ার হোসেন মিশু ও তার লোকজন। সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ নেতা সুমনের দুই হাত, চোখের নিচ ও মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। তার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক।

তবে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশু সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আবদুর রাজ্জাক সুমনের লোকেরা আমাকে কুপিয়ে আহত করেছিল।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি (তদন্ত) আশ্রাফ বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন আবদুর রাজ্জাক সুমনকে কুপিয়ে আহত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মতামত দিন