ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন চাঁদপুরের বিপ্লব কুমার

বিপ্লব কুমার দেব। ছবি : সংগৃহীত

চাঁদপুরের কচুয়ার বিপ্লব কুমার দেব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিজেপি অভাবনীয় জয় পেয়েছে। তিনি রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দুই বছরের মধ্যেই দলটিকে ঐতিহাসিক বিজয় এনে দেন। তিনি নিজেও একটি আসন থেকে নির্বাচিত হন।

আগামী বুধবার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বিজেপি কেন্দ্রীয় কমিটি।

বিপ্লব কুমার দেব চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা-মা ত্রিপুরা চলে যায়। এরপর সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান তারা। তবে তার আত্মীয়-স্বজন অনেকেই এখনও কচুয়ায় বসবাস করেন। তার চাচা প্রানধন দেব কচুয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবার ত্রিপুরার বনমালিপুর আসন থেকে লড়েছেন বিপ্লব। সেই নির্বাচনে বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে বিজেপি ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসন পায়। বিপ্লব কুমার দেব নিজেও একটি আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

শনিবার ত্রিপুরাসহ তিন রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। এরপরই ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিপ্লব দেবকে ত্রিপুরার ভাবী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিপ্লব দেব ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব পান ২০১৬ সালে ৭ জানুয়ারি। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে বিপ্লব দেব ১৫ বছর দিল্লিতে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি ব্যায়ামাগারের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। বিপ্লব রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দুই বছরের মধ্যেই দলটিকে ঐতিহাসিক বিজয় এনে দেন।

ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির সভাপতি বিপ্লব দেব ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দলটির সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্য সভাপতি। এই যুবনেতা মাত্র দুই বছরের মাথায় ২৫ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে লাল থেকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দিলেন ত্রিপুরাকে। অন্য অনেকের নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনা থাকলেও অন্য অনেকের চেয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিপ্লব দেব।

শনিবার ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রতিক্রিয়ায় ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির সভাপতি বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের যোগাযোগ ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা নিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন করা হবে। এ জয় বিজেপির জয় নয়, রাজ্যবাসীর জয় বলে অভিহিত করেন তিনি। বামফ্রন্ট ত্রিপুরাবাসীর সঙ্গে যে আচরণ করেছে, তার ফল হিসেবে রাজ্যের মানুষ এর জবাব দিয়েছে। তবে ‘আমি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হতে প্রস্তুত আছি। তবে দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।’

বিপ্লব দেবের অভাবনীয় জয়ের খবর পেয়ে শনিবার কচুয়ায় মিষ্টিমুখ করেছেন তার আত্মীয়স্বজন ও অনুরাগীরা। তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় চাঁদপুর-১ কচুয়ার সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ‘আমার এলাকার সন্তান ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভায় জয়ী হওয়ায় আমি তাকে অভিনন্দন জানাই।’

জানা গেছে, বিপ্লব দেব গত বছর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে বিজেপির প্রতিনিধিদলের প্রধান হয়ে যোগদান করেন। সম্মেলন শেষে তিনি তখন তার গ্রামের বাড়ি কচুয়ায় হেলিকপ্টারযোগে আসেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সিনিয়র অফিসার নীতি রানি দেব।

মতামত দিন