‘জাফর ইকবাল ২০০ বইয়ে এক লাইনও ইসলামবিরোধী লিখেনি’

শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেছেন, ‘জাফর ইকবাল ২০০ বই লিখেছে। তার মধ্যে একটা লাইনও ইসলামের বিরুদ্ধে লিখেনি।’ তিনি বলেন, ‘হামলাকারীকে বুঝানো হয়েছে ইসলামের বিরুদ্ধে লিখেছে। কারণ, হামলাকারী বই পড়েনি। তাহলে সে বুঝতো এটা সত্য নয়।’ ড. জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের শাস্তি দাবিতে সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এক মানবন্ধনে তার স্ত্রী এসব কথা বলেন।

ছাত্রদের ইতিহাস জানতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদেরকে ভুল বুঝানো যেতে পারে। একটা কথা মনে রাখতে হবে- দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় কোনো ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ছিল না, আমরা বাঙালি ছিলাম।’

অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, ‘এই ইতিহাস জানতে হবে। এটা সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) দেশ। ছাত্রদের নিজে বুঝতে হবে। ছাত্রদের শেখাতে হবে মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা। সব ধরনের লোকের অধিকার আছে এই দেশে থাকার।’

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাফর ইকবাল প্রথমে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল- আমাকে এখানে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএইমএইচ) নিয়ে আসার ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) কে নিলো? কারণ আমরা তো জানি তার সিএমএইচ-এ থাকার কথা না। আমি তখন বলেছিলাম- এই ডিসিশন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন।’

ড. জাফর ইকবালের স্ত্রী বলেন, ‘আমাকে সিলেট থেকে শিক্ষকরা জানিয়েছিলেন- প্রধানমন্ত্রী পার্সোনালি (ব্যক্তিগতভাবে) খোঁজ নিচ্ছেন। উনি এতো ব্যস্ত মানুষ! রাত পর্যন্ত উনি ফোন করেছেন, খবর নিয়েছেন।’

‘একজন প্রাইম মিনিস্টিার (প্রধানমন্ত্রী) এমন হতে পারেন আমার ধারণা ছিল না। উনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, উনার লিডারশিফ কোয়ালিটি (নেতৃত্ব গুণ) আছে। কথাও আন্তরিকভাবে বলেন তিনি। কিন্তু আজকে যেভাবে উনি ডিটেইলে (বিস্তারিত) কথা বলছিলেন, এতো আন্তরিক মানুষ!’ যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, ‘জাফর ইকবাল একটা কথা বলেছিল ডাক্তারকে- আমি ছোটো মানুষ, এতো বড় মানুষ আমাকে দেখতে আসছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমি আজকে সরাসরি ধন্যবাদ জানিয়েছি, যেভাবে উনি ঢাকায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।’

ড. জাফর ইকবালের সুস্থ হতে এক সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে একদমই ভালো আছে। ভালো না থেকে যাবে কই। যেভাবে আপনারা সবাই মিলে, দেশবাসী দোয়া করছেন। সুস্থ হতে ৫-৬ দিন লাগবে যদি কোনো ইনফেকশন না হয়।’

ড. জাফর ইকবালের স্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আরও দ্রুত সুস্থ হোক। কারণ সে ৫টা কোর্স পড়াচ্ছে। সে নিজেই খুশি হবে যদি ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে পারে।’

এসময় নিহত ব্লগারদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সবাই অনেকদিন থেকে জানে যে একটা হুমকি আছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের বলবো- তোমরা তো জানো এমন হতে পারে। মানুষের দোয়ায় অনেক লাকি (ভাগ্যবান) সে (জাফর ইকবাল)। আঘাত সিরিয়াস হয়নি।’

এছাড়া সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, ‘জাফর ইকবাল নিজেই আমাকে, মেয়েকে ফোন দিয়ে বলেছিল- আমি নিজেও চাই না তুমি মিডিয়া থেকে ফোন পাও। আমরা জানার ৩-৪ মিনিট পর মিডিয়ায় চলে আসে। আপনাদেরকে ধন্যবাদ। সবাই অসম্ভব সহযোগিতা করেছেন।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে ড. জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করে ফয়জুল ইসলাম নামের এক যুবক। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে গণপিটুনির পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

অধ্যাপক জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এনে ভর্তি করা হয়। সোমবার সেখানে তাকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী।

মতামত দিন