টাকাপয়সা ছাড়াই খাওয়ানো হয় এখানে !

গত শুক্রবার বেলা দেড়টা। টাঙ্গাইল শহীদ মিনার চত্বরে এক এক করে আসছে দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ। বেলা দুইটার আগেই মানুষের সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়ে যায়। দুইটার দিকে ভাত, গরুর মাংস, সবজি নিয়ে সেখানে আসেন কয়েকজন। এ সময় আগত দরিদ্রের সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তাদের মধ্যে প্লেটে পরিবেশন করা হয় ওই খাবার।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ওইসব দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষকে খিচুড়ি, মাংস, সবজি খাওয়ানো হয়। এভাবেই প্রতি শুক্রবার টাঙ্গাইল শহীদ মিনার চত্বরে দুই শতাধিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার পরিবেশন করেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ। তিনি এক বছর ধরে ওই খাবার পরিবেশন করছেন।

মির্জা মাসুদ বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থল নিরালার মোড়ে তাঁর নিরালা হোটেল ও চায়নিজ রেস্তোরাঁ। প্রতিদিন অসংখ্য দরিদ্র মানুষ তাঁর কাছে খাবার চাইতে আসে। কাউকে দেন, কাউকে দিতে পারেন না। তখন তাঁর ইচ্ছা হয়, ব্যবসার লভ্যাংশের অংশ থেকে এসব ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন। দেরি না করে এক বছর আগে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নেমে পড়েন। এক দুপুরে শুরু করে দেন দরিদ্র মানুষদের খাওয়ানো। এর নাম দেন গরিবের হোটেল রবিনহুড। প্রথম পাঁচ মাস টানা প্রতিদিন খাওয়াতেন। কিন্তু খরচ কুলাতে না পারায় পরে সিদ্ধান্ত নেন শুধু শুক্রবার খাওয়ানোর।

গত শুক্রবার শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দরিদ্র ছিন্নমূল দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশু বসে আছে। এ সময় মির্জা মাসুদ ও তাঁর দুজন সহযোগী তাদের প্লেটে ভাত, সবজি ও গরুর মাংস দেন।

সেখানে আসা সদর উপজেলার তারুটিয়া গ্রামের দিনমজুর আবদুর রশীদ বলেন, ‘টাকাপয়সা ছাড়াই এখানে খাওয়ানো হয়। তাই পেটভরে খাওয়ার জন্য প্রতি শুক্রবার এখানে চলে আসি।’ কাকুয়া চরের জয়নব বেগম বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরে ভিক্ষা করি। পরে দুপুরে এখানে চলে আসি খেতে।’ মোস্তফা নামের ১০-১১ বছরের এক শিশু বলে, ‘আমি শহরের কাগমারী এলাকায় মায়ের সঙ্গে থাকি। কাগজ কুড়িয়ে দু-চার পয়সা আয় করি। এ দিয়ে ভালো খাবার খেতে পারি না। তাই শুক্রবার ভালো খাবার খেতে এখানে চলে আসি।’

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এ আয়োজন খুবই ভালো উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবানেরা এগিয়ে এলে শুধু শুক্রবার নয়, এমন উদ্যোগ প্রতিদিনই চলতে পারে।

মির্জা মাসুদ বলেন, তিনি যত দিন বেঁচে থাকবেন, তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য যত দিন টিকে থাকবে, এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

মতামত দিন