‘মার্কিন ড্রোন’ হামলায় পাকিস্তান তালেবান প্রধানের ছেলেসহ নিহত ২০

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে ‘মার্কিন ড্রোন’ হামলায় তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) প্রধান মোল্লা ফজলুল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ নিহত হয়েছে। বুধবারের (৭ মার্চ) ওই হামলায় আরও ১৯ তালেবান সদস্য নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তালেবানের নামে পাঠানো বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।

আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের ম্যাপ

পাকিস্তান আফগানিস্তান সীমান্তের আফগান অংশে টিটিপিকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বাহিনী তেমন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে প্রায়ই অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতার হার কমে এলেও পাকিস্তানি কেসামরিক নাগরিক ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা অব্যাহত রেখেছে তালেবান। দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া টেরোরিজম পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে ‘তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের’ বিভিন্ন হামলায় কমপক্ষে ৭৪৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। ২০১২ সালে এ হার ছিল ৩,৭৩৯। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার টিটিপি যোদ্ধা ও তাদের মিত্রকে হত্যা করেছে। বুধবার পাকিস্তানের বাজাউর জেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের মোবাইলে টেক্সট আকারে বিবৃতি পাঠিয়েছে টিটিপি। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, টিটিপি ক্যাম্পে এক হামলায় ফয়জুল্লাহর ছেলে আবদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বিবৃতি অনুসারে, নিহতরা সবাই ছিল ‘ফিদায়িন’ বা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, হামলায় টিটিপির প্রভাবশালী কমান্ডার গুল মোহাম্মদ ও ফিদায়িন প্রশিক্ষক ইয়াসিন নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের মিত্ররা ধারাবাহিক অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে পাকিস্তানে ‘নিভৃত আবাস’ গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। নতুন বছরের টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে সহায়তা বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর ৫ জানুয়ারি নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। অবশ্য, হাক্কানি নেটওয়ার্ক,তালেবান ও লস্কর-ই-তৈয়বার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তান তহবিল যুগিয়ে যাচ্ছে বলে ক্রমাগত অভিযোগ করে যাওয়ার পরও দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এবার ট্রাম্পের ঘোষণার পরও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, সহায়তা স্থগিত সাময়িক। আর এটি আপাতত স্থগিত করা হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলবে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে আলোচনার জন্য এ সপ্তাহে ওয়াশিংটন যান পাকিস্তানি পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জানজুয়া।

মতামত দিন