পর্তুগাল, যেখানে শিক্ষার্থীদের হাত ধরে ফুটবলের যাত্রা

দেখতে দেখতে চলে এসেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের পরবর্তী আসর। এবার বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জমকালো টুর্নামেন্টের ২১তম আসরটি বসবে রাশিয়ায়। ১৪ জুন মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ‘এ’ গ্রুপের খেলায় স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে এবারকার আসর। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আসুন পরিচিত হওয়া যাক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দেশগুলোর ফুটবল সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে। আজ থাকছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম দল পর্তুগালের কথা।

পর্তুগাল ইউরোপের সমৃদ্ধ ইতিহাসের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। রেঁনেসা পরবর্তী যুগে পর্তুগিজ বণিকদের হাত ধরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে দেশটি সংস্কৃতি ও ভাষা। সেই দেশেও ফুটবল খেলা প্রসারে ভূমিকা আছে ব্রিটিশদের। মূলত ইংল্যান্ড ফেরত কয়েকজন পর্তুগিজ শিক্ষার্থী ঊনিশ শতকের শেষ দিকে নিজ দেশে ফুটবল খেলা চালু করেন। মাদেইরায় জন্ম নেওয়া বিলাত ফেরত হারি হিনতনের হাত ধরে ১৮৭৫ সালে পর্তুগালে প্রথম আনুষ্ঠানিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই দ্রুত খেলাটি স্থানীয়দের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়।

তবে ইউরোপিয়ান এ দ্বীপরাষ্ট্রে ফুটবল প্রসারে ভূমিকা রাখেন গুইলহারমি পিন্তো বাস্তো। ১৮৮৮ সালের অক্টোবরে তিনি একটি ফুটবল প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। প্রচলিত আছে তার ভাই এদওয়ার্দো ও ফ্রেদেরিকো ইংল্যান্ড থেকে বল নিয়ে আসেন। পরের বছর, ১৮৮৯ সালে পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেন বাস্তো। ওই ম্যাচ ২-১ এ জেতে পর্তুগাল। এসময়ই পর্তুগালের অভিজাত সমাজে ফুটবল নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

ধীরে ধীরে দেশটির কলেজ ও বিভিন্ন অঞ্চলে ফুটবল ক্লাব ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ‘ক্লাব লিসবনেনস’, ‘ব্র্যাকো ডি প্রোতা’, ‘রিয়াল গিনাসিও’র মতো বেশ কিছু ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯৪ সালে লিসবন ও পোর্তোর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে প্রথম ঘরোয়া ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় পর্তুগালে। ওই ম্যাচ দেখতে পর্তুগালের রাজা কিং কার্লোস উপস্থিত ছিলেন। ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাব ‘ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল’ পর্তুগালের প্রথম দল হিসেবে দেশের বাইরে খেলতে যায়। ১৯০৭ সালে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ‘মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব’কে হারায় তারা।

১০১৪ সালের ৩১ মার্চ ‘ইউনিয়াও পর্তুগিজা ডি ফুটবল’ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২৮ মে ১৯২৬ সালে এটি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনে রূপান্তরিত হয়। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে দেশটি প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই তৃতীয় স্থান লাভ করে। ওই টুর্নামেন্টে সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে (১-২) হারের আগে দলটি গ্রুপপর্বে হাঙ্গেরি (৩-১), বুলগেরিয়া (৩-০) ও ব্রাজিলকে (৩-১) হারায়। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-৩ গোলের জয় পায়। আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-১ ব্যবধানে হারায় পর্তুগাল। বিশ্বকাপে এটাই এ পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য।

মতামত দিন