প্রেমিকাকে ছুরি মারার ঘটনায় প্রেমিকের জবানবন্দি

একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগে সুলতানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ইমরানের। কয়েক বছর ধরে চলা সম্পর্ক এক সময় গভীর হয়।

কিন্তু এরই মধ্যে ঘটে যায় বিপত্তি। প্রেমিকা ধীরে ধীরে তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। ফাটল দেখা দেয় প্রেমে। ইমরানকে এড়িয়ে চলে সুলতানা।

ইমরানের দাবি, এরই মধ্যে সুলতানা অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে সাবেক প্রেমিকার ওপর হামলা চালায় ইমরান।

কিশোরগঞ্জে ঈশাখাঁ ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি ১১ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সৈয়দা ইলমি সুলতানার ওপর হামলা ও তাকে ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনায় জড়িত পুলিশের হাতে গ্রেফতার সাবেক প্রেমিক মো. ইমরান ওরফে ইমু (২১) আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানায়।

কিশোরগঞ্জের ৬ নং জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক শামীম রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় তার খাসকামরায় ইমরানের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

পরে তাকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে দুপুরের দিকে ইমরানকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তোফায়েল হোসেন।

ইমরানের জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুশামা মো. ইকবাল হায়াত।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজিতপুর উপজেলার উপজেলার সরারচর এলাকা থেকে ইমরানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ইমরান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র এবং শহরের নগুয়া এলাকার রতন মিয়ার ছেলে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে শহরের খড়মপট্টি এলাকায় ঈশাখাঁ ইনটারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শাখার শেষবর্ষের ছাত্রী সৈয়দা ইলমি সুলতানাকে ছুরিকাঘাত করে সাবেক প্রেমিক ইমরান। এর পরই সে পালিয়ে যায়। সুলতানা বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

এ ঘটনায় সুলতানার বাবা শহরের হারুয়া এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সৈয়দ সেলিম জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে শনিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেছেন।

মতামত দিন